নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অবশেষে অশোকনগরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় জানা গেল। মৃতের নাম শেখ নুর আলম (৩৩)। তিনি প্রাক্তন সিআরপিএফ কর্মী। বাড়ি নন্দীগ্রামে। বুধবার নিহতের পরিবারের সদস্যরা এসে দেহ ময়নাতদন্তের পর বাড়ি নিয়ে গিয়েছেন। পুলিসের অনুমান, তাঁকে প্রথমে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় পরে গলার নলি কেটে অশোকনগরে ফেলে রেখে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। তবে, নন্দীগ্রাম থেকে ১৬৬ কিলোমিটার দূরে অশোকনগরে নুর আলমের দেহ কেন ফেলা হল তা নিয়ে ধোঁয়াশায় পুলিস। বাড়ছে রহস্যও।
সোমবার অশোকনগরের ভুরকুণ্ডা পঞ্চায়েতের বুজরুকদিঘা মোড় সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির গলার নলি কাটা দেহ উদ্ধার হয়। পুলিস প্রথম থেকেই নিশ্চিত ছিল ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে। নিহতের পাঞ্জাবির পকেট থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম রুটের বাসের টিকিট পেয়েছিল পুলিস। টিকিটের সূত্র ধরেই নিহতের নাম পরিচয় জানার জন্য পূর্ব মেদিনীপুরে পুলিসের একটা টিম পাঠিয়েছিলেন পুলিস সুপার। শেষে পূর্ব মেদিনীপুরে গিয়েই তদন্তকারী পুলিসের টিম নিহত ব্যক্তির পরিবারের হদিশ পায়। নিহতের বাড়ি নন্দীগ্রামে। পরিবার সূত্রে পুলিস জানতে পেরেছে, নুর আলম বিবাহিত। কয়েক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তিনি সিআরপিএফে চাকরি করতেন। স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে তিনি চাকরি হারান। নুর আলমের খুনের পিছনে তাঁর বিয়ে সংক্রান্ত বিবাদ রয়েছে, নাকি অন্য কোনও বিষয়ে ব্যক্তিগত আক্রোশ রয়েছে, তাও তদন্ত করে দেখছে পুলিস। আর খুনের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও বিষয় আছে কি না, তারও খোঁজ চলছে। বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া বলেন, নিহতের দেহ শনাক্ত করেছেন তাঁর পরিবারের লোকজন। দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। পরে গলার নলি কেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও খুনের বিষয়টি রয়েছে। খুনের মোটিভ কি, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।