সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠে বেড়াতে নিয়ে এসে হোটেলে স্ত্রীকে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা হল মুর্শিদাবাদের এক যুবকের। সোমবার রামপুরহাট আদালতের এডিজে সৌগত রায় এই রায় দেন।
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠে বেড়াতে নিয়ে এসে হোটেলে স্ত্রীকে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা হল মুর্শিদাবাদের এক যুবকের। সোমবার রামপুরহাট আদালতের এডিজে সৌগত রায় এই রায় দেন।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে ২২ জুলাই স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তারাপীঠের একটি হোটেলে ওঠেন মুর্শিদাবাদের উমরাহগঞ্জের বছর চব্বিশের নুরুল ইসলাম ও বছর উনিশের রুবিনা খাতুন। একদিন থাকার পর রুম পরিবর্তন করে ফার্স্ট ফ্লোরের একটি এসি রুমে আসেন। ২৯ জুলাই সকালে হোটেল ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু চেক আউটের নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও রুম না ছাড়ায় হোটেল কর্মী বলতে গেলে দেখেন স্বামী সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছে। হোটেল কর্মী জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে গাড়ি ডেকে নিয়ে আসছি। দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে এবং ফোন সুইচড অফ দেখার পর হোটেল কর্তৃপক্ষ রুমে গিয়ে দেখে ভিতরে এসি চললেও বাইরে থেকে রুমের দরজা লক করা। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে হোটেল কর্মীরা মালিক ও পুলিসকে খবর দেন। পরে পুলিস এসে ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে রুম খুলে দেখেন কম্বল ঢাকা অবস্থায় রুবিনা পড়ে রয়েছেন। কম্বল সরাতেই দেখা যায় মহিলা মৃত। নাক, মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছে। পুলিস হোটেলের রেজিস্টার খতিয়ে দু’জনের আধারকার্ড সংগ্রহ করে। পরে হোটেলের রুম থেকে ব্যাঙ্কের পাসবুক উদ্ধার হয়। পুলিস হোটেলের পাশাপাশি রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। পরে নুরুলের ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পরের দিন উমরাহগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে। জেরায় সে স্বীকার করে, রুবিনার ওড়না তাঁর গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ মেরেছে। পুলিস অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে সেই রুমের ওয়াল টিভির পিছন থেকে ওড়না উদ্ধার করে। সেই ঘটনায় অভিযুক্তর বিরুদ্ধে ৩০২ ও ২০১ ধারায় মামলা শুরু হয়। নুরুলকে জেল হেফাজতে রেখেই বিচার প্রক্রিয়া চলে এসেছে। এই মামলায় মোট ২৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত শনিবার বিচারক অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন। সোমবার আসামীকে যাবজ্জীবন সাজা শোনান। সেই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। অনাদায়ে আরও ছয়মাস জেল। কিন্তু কেন এই খুন? সরকারি আইনজীবী উৎপল মুখোপাধ্যায় বলেন, ওরা একে অপরকে ভালোবেসেই বিয়ে করেছিল। কিন্তু নুরুলের পরিবার সেই বিয়ে মানতে চায়নি। ফলে স্ত্রীকে নিয়ে ওই এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যেই আর্থিক অনটন দেখা দেয়। এরই মধ্যে নুরুল অপর এক যুবতীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সেই সম্পর্কের বাস্তব রূপ দিতে পথের কাঁটা স্ত্রীকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে সে।