Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

হরিশ্চন্দ্রপুর: স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু হল স্বামীর। গুরুতর জখম স্ত্রীও। মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার ভোরে হরিশ্চন্দ্রপুরের মিলনগড় রেলস্টেশনে।

স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু
  • ১২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু হল স্বামীর। গুরুতর জখম স্ত্রীও। মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার ভোরে হরিশ্চন্দ্রপুরের মিলনগড় রেলস্টেশনে। পুলিস জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম অনিমেষ বর্মন (২১)। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ থানার নিশিরোল গ্রামে। যুবকের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার পরিজন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেড় মাস আগে বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করেছিলেন যুবক। কলকাতায় প্লাইউড কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর অসুস্থ মাকে ডাক্তার দেখাতে কলকাতায় নিয়ে গিয়েছিলেন যুবকের বাবা শ্যামল বর্মন। সঙ্গে ছিলেন যুবকের স্ত্রী এলিনা রাজবংশী। ডাক্তার দেখিয়ে রাধিকাপুর এক্সপ্রেস ট্রেন ধরে বাড়ি ফিরছিলেন ছেলে-বউমা ও মা-বাবা সহ মোট ছ’জন। কালিয়াগঞ্জ রেল স্টেশনে নামার কথা। ভোরে ট্রেনে বউমার পেটে যন্ত্রণার পাশাপাশি বমি ভাব হতে শুরু করে। টয়লেটে প্রচন্ড ভিড় থাকার কারণে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বমি করছিলেন। অসাবধানতাবশত ট্রেন থেকে পড়ে যান বধূ। স্ত্রীকে বাঁচাতে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন স্বামী। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় যুবকের। রেলওয়ে পুলিস ছুটে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। চিকিৎসক যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বধূকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের লোকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মালদহের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। ওই ট্রেনের এক যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, একই কামরায় আমরা ছিলাম। ভোরে ট্রেন থেকে পড়ে যান দম্পতি। ছেলের মা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে সকলের ঘুম ভেঙে যায়। এরপর ট্রেনের চেন টানলে ট্রেন দাঁড়িয়ে যায়। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে রেল পুলিস। মৃত যুবকের বাবা শ্যামল বর্মন বলেন, আমার একমাত্র সন্তান ছিল সে। অভাবের সংসার। দেড় মাস আগে বিয়ে করেছিল। কলকাতায় প্লাইউড কারখানায় কাজ করত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল সে। এখন কীভাবে সংসার চলবে ভেবে পাচ্ছি না।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ