নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দশ বছর আগে জোড়া খুনের সাক্ষী থেকেছিল চিৎপুর। রানি দেবেন্দ্রবালা রোডে নিজেদের ফ্ল্যাটেই খুন হয়েছিলেন অধ্যাপক দম্পতি। লোহার পাইপ দিয়ে মারার পর মাথা থেঁতলে খুন করা হয়েছিল তাঁদের। এরপর আলমারি খুলে টাকা ও সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দিয়েছিল আততায়ী। যাওয়ার সময় ফ্ল্যাটের বাইরের দরজায় তালা লাগিয়েছিল সে। মঙ্গলবার এই জোড়া খুনের মামলায় সঞ্জয় সেন (৪৫) ওরফে বাপ্পাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন শিয়ালদহ আদালতের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অনির্বাণ দাস। জানা গিয়েছে, আততায়ী ওই দম্পতির পূর্ব পরিচিত। বাপ্পাকে সন্তান স্নেহেই দেখতেন তাঁরা। বিচারক আসামির উদ্দেশে বলেন, আপনার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। জোড়া খুনের অপরাধে আপনার মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আজ, বুধবার সাজা ঘোষণা হবে। সরকারি আইনজীবী সন্দীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘যুবকের মাছের ব্যবসা ভালো না চলায় তাকে একটি রিকশ কিনে দিয়েছিলেন ওই দম্পতি। সেই সময় ওই ফ্ল্যাটে অবারিত দ্বার ছিল বাপ্পার। তার প্রতিদান হিসেবে জুটেছে ওই নিষ্ঠুর ঘটনা। আমরা অপরাধীর চরম সাজা চাইছি।’
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় প্রাণগোবিন্দ দাস ও রেনুকা দাস খুন হয়েছিলেন নিজেদের ফ্ল্যাটে। তাঁরা দু’জনেই অধ্যাপনা করতেন এক সময়ে। ঘটনার সময় ছিলেন পেনশনভোগী। অভিযুক্ত বাপ্পা খুনের পর পালিয়ে যায় নন্দীগ্রামে। পরে সে কলকাতায় ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। জেরা করে পুলিস ওই এলাকার একটি পুকুর থেকে লোহার পাইপটি উদ্ধার করে। ওই পাইপ দিয়েই আঘাত করা হয়েছিল দম্পতির মাথায়।
পুলিস সূত্রে খবর, যখন বাপ্পা হামলা চালায়, তখন আলাদা আলাদা ঘরে ছিলেন অধ্যাপক ও অধ্যাপিকা। তাঁদের রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে আলমারি থেকে টাকা ও সোনার গয়না হাতিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল সে। পরে ওই বিল্ডিংয়ের এক বাসিন্দা পুলিসকে জানিয়েছিলেন, ওইদিন সন্ধ্যার পরে ওই যুবককে ব্যাগ হাতে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে যেতে দেখেছিলেন। তদন্ত শেষ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা করেছিলেন পুলিসের তদন্তকারী অফিসার জগবন্ধু গড়াই। সাক্ষ্য দিয়েছিলেন ২৯ জন। পুলিস ওই টাকা ও সোনার গয়না উদ্ধার করেছিল। এছাড়াও ফিঙ্গার প্রিন্ট, ফরেন্সিক রিপোর্ট সহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে সাহায্য করেছে। এমনটাই জানিয়েছেন সন্দীপবাবু। এদিন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বাপ্পাকে লকআপে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ধরে কান্নাকাটি করে তার দুই মেয়ে।