সংবাদদাতা, বর্ধমান: হস্টেল থেকে মোবাইল চুরি করে বেসরকারি হাসপাতালের নার্সের স্নানের দৃশ্য সোশ্যাল সাইট ইনস্টাগ্রামে ছড়ানো ও তাঁকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে বর্ধমান সাইবার থানার পুলিস। ধৃতের নাম স্নেহাশিস রায়। তার বাড়ি মেমারি থানার মালম্বা গ্রামে। শুক্রবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সাইবার থানায় ডেকে পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় তার জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নার্সের বাড়ি পুরুলিয়ায়। তিনি উল্লাস এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নার্স। উল্লাস এলাকায় হাসপাতালের গার্লস হস্টেলে থাকেন তিনি। গত ১৪ জুন হস্টেল থেকে তাঁর স্মার্ট ফোনটি চুরি হয়ে যায়। এনিয়ে তিনি বর্ধমান থানায় ডায়েরিও করেন। পরেরদিন সকালে ইনস্টাগ্রামে তাঁকে উল্টোপাল্টা মেসেজ পাঠানো হয়। তাঁকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেল করা হয়। ১৬ জুন তাঁর ইনস্টাগ্রাম আইডি থেকে একটি আপত্তিকর ভিডিও আপলোড করা হয়। বন্ধুর কাছ থেকে তিনি তা জানতে পারেন। সেটি তিনি দেখেন। পরে সেটি ডিলিট করে দেওয়া হয়। ইনস্টাগ্রামে তাঁকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। ভিডিওকল করে তাঁকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেলিং করা হয়। বাধ্য হয়ে তিনি সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে কেস রুজু করে তদন্তে নামে থানা। আপত্তিকর পোস্ট এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর হদিশ পেতে গুগল ও মেটাকে রিক্যুইজিশন পাঠায় সাইবার থানা। ইন্টারনেট প্রোটোকল ডিটেলস রেকর্ডও জানতে চাওয়া হয়। সেখান থেকে তথ্য পাওয়ার পর ঘটনায় স্নেহাশিসের জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয় পুলিস। এরপরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠানো হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিস জেনেছে, ওই নার্সের জিমেল আইডির সাহায্যে ইনস্টাগ্রাম আইডি অ্যাক্টিভেট করে অভিযুক্ত। তারপর সে ইনস্টাগ্রামে তাঁকে কুপ্রস্তাব দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিস আরও জেনেছে, মোবাইল চুরির দিন হস্টেলে গিয়েছিল স্নেহাশিস। স্টাফ নার্সের মোবাইলটি সে চুরি করে। সেই সময় নার্স স্নান করছিলেন। তাঁর স্নানের দৃশ্যও মোবাইল বন্দি করে সে। সেই ভিডিও সে ইনস্টাগ্রামে আপলোড করে। সেই ছবি দেখিয়েই ওই নার্সকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। ধৃতকে শনিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতের আইনজীবী পার্থ হাটি জামিনের সওয়ালে বলেন, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আইন মানা হয়নি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪৭ ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এমনকী, কী কারণে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে বাধ্য হল পুলিস তা চেকলিস্টে উল্লেখ করেনি। সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। দু’পক্ষের সওয়াল শুনে সপ্তাহে একদিন তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা, তদন্তে সহযোগিতা এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত না করার শর্তে ধৃতের জামিন মঞ্জুর করেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।