নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আজ মুখ্যমন্ত্রীর বহু প্রতীক্ষিত প্রশাসনিক সভা। ইতিমধ্যেই সেজে উঠেছে হুগলির সিঙ্গুর। সেজে উঠেছে জাতীয় সড়কের ধার। কার্যত রঙিন হয়ে উঠেছে সিঙ্গুর। উৎসাহে টগবগ করে ফুটছেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রচার থেকে সভার সাজসজ্জাকে ঘিরে। কেউ বলছেন প্রধানমন্ত্রীর জবাবি সভা। কারও দাবি, মিনি বিগ্রেড সভার আয়োজন হয়েছে সিঙ্গুরে, দেওয়া হবে মিথ্যচারের জবাব। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, মুখ্যমন্ত্রীর বুধবারের সভাকে বেনজির করে তুলতে চাইছেন নেতাকর্মীরা, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পরিকল্পনাও তেমনই। আর সেই কারণেই বুধবারের সভাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চড়ছে উত্তেজনার পারদ। সভা করা হবে সিঙ্গুরের পহলমপুরের ইন্দ্রখালি মাঠে। আপাতত ঘোষণা মোতাবেক সিঙ্গুর থেকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরির অনুমোদন ও অনুদান দেওয়া হবে। গোটা রাজ্যের সেই ল্যান্ডমার্ক কর্মসূচির উদ্বোধনী স্থল হিসেবে বাছা হয়েছে সিঙ্গুরকে। রয়েছে গুচ্ছ উন্নয়নমূলক কাজের শিলান্যাস ও উদ্বোধন কর্মসূচি। কিন্তু এসবই প্রশাসিনক বক্তব্য, প্রশাসনিক মোড়ক। সভার আসল তাৎপর্য অন্যত্র। আর সেটিই ওই সভাকে হেভিওয়েট করে তুলছে। মাত্র ১০দিন আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদিকে দিয়ে সিঙ্গুরে সভা করিয়েছিল বিজেপি। সেই সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের উন্নয়ন থেকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনিতেই তৃণমূল, বিজেপির যেকোনো সভারই পালটা সভা করে। এটা বহুবছরের দস্তুর। কিন্তু এবারে প্রধানমন্ত্রীর সভার পরে পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। তার অন্যতম কারণ, সিঙ্গুর থেকে প্রধানমন্ত্রী শিল্প গড়ার ঘোষণা করবেন বলে প্রচার করেছিল বিজেপি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শিল্প নিয়ে কার্যত মুখই খোলেননি। তাতে বিজেপি রাজ্যব্যাপী অনেকটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে। আবার এসআইআর-সহ অন্যান্য গুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিজেপি ল্যাজেগোবরে হয়ে আছে। নির্বাচন আসন্ন। তাই ‘মরার উপরে খাঁড়ার ঘা’ দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব হাতছাড়া করতে চাইছেন না। সেই কারণেই এবার ময়দানে নামছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



