Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মমতার নতুন প্রকল্প ‘শ্রমশ্রী’, বাঙালি হেনস্তা আর নয়, শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরে পাবেন মাসে ৫ হাজার

সম্প্রতি বীরভূমে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরে আসার ডাক দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, ঘরে ফিরে আসা শ্রমিকদের জন্য তাঁর সরকার নতুন প্রকল্প আনবে।

মমতার নতুন প্রকল্প ‘শ্রমশ্রী’, বাঙালি হেনস্তা আর নয়, শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরে পাবেন মাসে ৫ হাজার
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্প্রতি বীরভূমে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরে আসার ডাক দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, ঘরে ফিরে আসা শ্রমিকদের জন্য তাঁর সরকার নতুন প্রকল্প আনবে। ঘোষণার আড়াই সপ্তাহের মধ্যেই হল প্রতিশ্রুতি পূরণ! সোমবার নবান্ন থেকে ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যে ফিরে আসা শ্রমিকরা প্রথম এক বছর মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি আরও বেশ কিছু সুবিধা দেওয়া হবে তাঁদের। 

Advertisement

এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে কেউ বাংলায় কথা বললেই তাঁকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে পুশ করে দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। থানায় নিয়ে গিয়ে হেনস্তাও বাদ যাচ্ছে না। বাংলার ২২ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করেন। যাঁরা ফিরে আসছেন, তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য শ্রমশ্রী প্রকল্প চালু করা হচ্ছে।’ প্রশাসন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ২ হাজার ৭৩০ জন পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার অত্যাচারিত হয়ে রাজ্যে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে।   
রাজ্যে ফিরে এলে আর কী কী সুবিধা পাবেন পরিযায়ী শ্রমিকরা? মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্পের অধীনে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করা হবে। কেন্দ্র ‘১০০ দিনের কাজ’-এর টাকা দেওয়া বন্ধ রাখায় বিকল্প হিসেবে ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য। সেখানেও কাজ পাওয়া যাবে। মাসে মাসে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তাঁদের ‘খাদ্যসাথী’ এবং ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড করিয়ে দেবে রাজ্য। যাঁদের নিজস্ব বাড়ি নেই, তাঁদের কমিউনিটি সেন্টারে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। রাজ্যে ফিরে এসে কোনও শ্রমিক ঋণ নিয়ে নিজে কোনও কাজ বা ব্যবসা শুরু করতে চাইলে তাঁদের সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘ফিরে আসার পর কেউ স্বনির্ভর হতে চাইলে মাইনরিটি ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন, এসসি-এসটি-ওবিসি ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এবং উদীয়মান স্বনির্ভর কর্মসংস্থান প্রকল্পের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারেন তাঁরা।’ শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে  ফিরলেও পরিযায়ী শ্রমিকদের ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা যাতে অব্যাহত থাকে, তাও নিশ্চিত করবে রাজ্য। মমতা জানিয়েছেন, এনিয়ে দুশ্চিন্তার কোনও প্রয়োজন নেই। পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরে এলে তাঁদের বাড়ির সন্তানদের স্থানীয় সরকারি স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে। কন্যাশ্রী, মেধাশ্রী, শিক্ষাশ্রী সহ একগুচ্ছ প্রকল্পের সুবিধা মিলবে সরকারি স্কুলে।     
শ্রমদপ্তর এই প্রকল্পের ‘নোডাল এজেন্সি’ হলেও সার্বিক নজরদারির জন্য মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য তৈরি পোর্টালে এখনও পর্যন্ত ২২ লক্ষ ৪০ হাজার জনের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। তাঁদের সবাইকে সচিত্র পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এখনও যাঁরা পোর্টালে নাম তোলেননি, দ্রুত তাঁদের সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন রাজ্যের সর্বত্র চলছে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ শিবির। সেখানে গিয়েও সংশ্লিষ্ট পোর্টালে নাম তোলা যাবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ