Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে সম্পত্তি দখল করেছেন মমতার দাদা, শুভেন্দুর দ্বারস্থ ক্যানসার রোগী

হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতার দাদা সম্পত্তি দখল করেছেন। ক্যানসার রোগী রঞ্জনা হাজরা শুভেন্দুর কাছে অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন। বিস্তারিত পড়ুন।

হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে সম্পত্তি দখল করেছেন  মমতার দাদা, শুভেন্দুর দ্বারস্থ ক্যানসার রোগী
  • ২৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে থাকা পারিবারিক সম্পত্তি দখল করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাদা অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্পত্তি ফেরত চাইতে গেলে বারবার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। তৃণমূল আমলে বিচার পাননি। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হলেন রঞ্জনা হাজরা। রঞ্জনাদেবী ৮০,বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে থাকেন। ক্যানসার আক্রান্ত। বুধবার জনতার দরবারে অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন। তিনি জানান, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি আছে। সেগুলি দখলের চেষ্টা করেন অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি একটি জায়গা দখল করে, বাড়িও করেছেন। এছাড়াও একাধিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালান। রঞ্জনারা প্রতিবাদ করায় একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। মহিলার দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সব জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি দেখারআশ্বাস দিয়েছেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁদের আশা, এবার কাজ হবে। প্রসঙ্গত, এর আগেও বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলে সম্পত্তি দখলের একাধিক অভিযোগ বিক্ষিপ্তভাবে উঠেছে। রঞ্জনাদেবী একা নন, তৃণমূল আমলে বিজেপি করার কারণে অত্যাচারের মুখে পড়েছিলেন অশোকনগরেরএক ব্যক্তিও। তাঁর কন্যা রানি মণ্ডল এদিন এসেছিলেন জনতার দরবারে। ১ নম্বরওয়ার্ডের বাসিন্দা রানিদেবীর অভিযোগ, বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ পর্যন্ত কেটে দিয়েছিল তৃণমূলের কর্মীরা। বাবাকে একাধিকবার জেল খাটিয়েছিল তারা। এখনও ওই এলাকার তৃণমূলনেত্রী জয়া দত্ত হুমকি দিচ্ছেন। এখন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সঠিক বিচারের আশায় এসেছেন তিনি। এই দু’জন শুধু নন, তৃণমূলের অত্যাচারের বিচার চাইতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এদিন এসেছিলেন সুপ্রিয়া বারুইও। 

Advertisement

তাঁর অভিযোগ, ৪মে ভোট গণনার দিন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাঁর ভাই চিরঞ্জিত বারুই। দেড়মাস ধরে হাসপাতালে ভর্তি তিনি। মরণাপন্ন অবস্থা। দিদি সুপ্রিয়া মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন ভাইয়ের উপর হওয়া অত্যাচারের সুবিচারের আশায়। শুধু অভিযোগ নিয়ে নয়, এদিন শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদ নিতেও এসেছিল এক সাক্ষাৎপ্রার্থী। দশম শ্রেণির ছাত্রী সুইটি মণ্ডল জনতার দরবারে কোনো সমস্যা নিয়ে নয়,মুখ্যমন্ত্রীর থেকে আশীর্বাদ নিতে নিজের আঁকা একটি ছবি উপহার দিতে এসেছিল। সুইটি অশোকনগরে থাকে। বড়ো হয়ে সেনা বাহিনীতে যোগ দিতে চায়। এছাড়াও শিলিগুড়ি থেকে এসেছিলেন শুভজিৎ রায়। তাঁর সাতমাসের সন্তানের গুরুতর অসুখ। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার আবেদন নিয়ে এসেছিলেন। প্রসঙ্গত, জনতার দরবারের চতুর্থ কর্মসূচিতে এক শিশুর চিকিৎসার খরচের সমস্যার সমাধান করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চম দফাতেও তাঁর কাছে এলেন অন্য এক সাহায্যপ্রার্থী।
সরকারে আসার পর মানুষের সমস্যার কথা সরাসরি শুনতে জনতার দরবার কর্মসূচি চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ছিল এই কর্মসূচির পঞ্চম দফা। এদিন ৩০ সাক্ষাৎপ্রার্থী দরবারে হাজির হন। সকাল থেকেই বিজেপি অফিসের বাইরে ছিল ঠাসা ভিড়। ১০ টা ৫০ মিনিট নাগাদ আসেন মুখ্যমন্ত্রী। জনতার দরবারে বসে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের অভাব-অভিযোগ শোনেন কয়েক ঘণ্টা ধরে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ