Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মমতার বাজেটে লক্ষ্মীলাভ, সামাজিক সুরক্ষায় জোর

লড়াইটা অব্যাহত! এসআইআর পর্বে বাংলার সাধারণ মানুষের হয়রানির প্রতিবাদে বুধবার তিনি সরব হয়েছিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।

মমতার বাজেটে লক্ষ্মীলাভ, সামাজিক সুরক্ষায় জোর
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লড়াইটা অব্যাহত! এসআইআর পর্বে বাংলার সাধারণ মানুষের হয়রানির প্রতিবাদে বুধবার তিনি সরব হয়েছিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। আর বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের শত বঞ্চনার মধ্যেও মহিলা, যুবসমাজ, কৃষক, খেতমজুর, খেটে খাওয়া প্রান্তিক মানুষ, অনলাইন ডেলিভারি (গিগ) কর্মী, পেনশন প্রাপক সহ সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষের জন্য কল্পতরু হয়ে নিজের ‘প্রতিবাদ’ নথিভুক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ কার্যত ‘শূন্য’। কিন্তু ভোটমুখী বাংলায় এদিন যে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছেন মমতা সরকারের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, তাতে ‘লক্ষ্মীলাভ’ হয়েছে গোটা রাজ্যের। শুধু পারিশ্রমিক বা ভাতা বৃদ্ধিই নয়, সংশ্লিষ্টের পরিবারকে আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়ার স্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে তাতে। সামাজিক সুরক্ষায় মমতার চালু করা প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এখন জেরক্স হচ্ছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। এই প্রকল্পে ৫০০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা হয়েছে বাজেটে। চলতি ফেব্রুয়ারি থেকেই তার সুফল পাবেন রাজ্যের প্রায় আড়াই কোটি মহিলা। ১৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ বেড়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারেই।

Advertisement

সামাজিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের হাতে নগদের জোগান বাড়িয়ে অর্থনীতি চাঙা করার যে প্রয়াস মমতা শুরু করেছিলেন, অন্তর্বর্তী বাজেটে তাও প্রতিফলিত হয়েছে। সরকারি, আধা সরকারি, শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মীদের কথাও ভেবেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি এবং সপ্তম পে কমিশন গঠনের ঘোষণা হয়েছে তাঁদের জন্য। পরিকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতি উজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-’২৭ আর্থিক বছরের জন্য মোট ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৮৪ কোটি ১৭ লক্ষ টাকার বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক সুরক্ষা খাতেই বরাদ্দ বৃদ্ধি ২২ হাজার ৬১০ কোটি টাকার। মমতার কথায়, ‘দিল্লির কাছে আমরা (বাংলা) দুয়োরানি! সব অর্থ বন্ধ। ভিন রাজ্যেও বাংলাভাষীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। জীবন মৃত্যু, পায়ের ভৃত্য করে লড়ছি। তাই সীমিত আর্থিক ক্ষমতার মধ্যেও সাধারণের জন্য কিছু করার চেষ্টা হয়েছে এই বাজেটে।’

বিস্তর চর্চা ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে।  শুধু ভাতা ও বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আবেদনের ভিত্তিতে এই প্রকল্পে আরও ২০ লক্ষ ৬২ হাজার মহিলাকে যুক্ত করা হয়েছে। রাজ্যের মোট ২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পে উপকৃত হবেন। নারী সশক্তিকরণের পথে লক্ষ্মীলাভ থেকে বঞ্চিত হননি আশা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়করাও। মাসে এক হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক বৃদ্ধি হয়েছে তাঁদের। এই পর্বে আশা কর্মীদের বাড়তি পাওনা ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি। এক হাজার টাকা করে মাসিক পারিশ্রমিক বেড়েছে প্যারাটিচার, শিক্ষাবন্ধু, সহায়ক-সহায়িকা, সম্প্রসারক, মুখ্য সম্প্রসারক, স্পেশাল এডুকেটর ও ম্যানেজমেন্ট স্টাফদের। সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন ও ভিলেজ পুলিশদেরও পারিশ্রমিক বৃদ্ধি হয়েছে এক হাজার টাকা। এই পর্বে প্রত্যেক কর্মীর ক্ষেত্রেই কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণও নিশ্চিত। অনলাইন ডেলিভারি বা গিগ কর্মীরা এবার থেকে পাবেন স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা।

তবে ভূমিহীন খেতমজুরদের জন্য বাজেটে যে ঘোষণা করেছে মমতা সরকার, তা এককথায় ‘যুগান্তকারী’ বলেই মানছেন সবপক্ষ। যারা কৃষকবন্ধুর সুবিধা পান না বা ভাগচাষি হিসেব নথিভুক্ত নন, তাঁরা বার্ষিক চার হাজার টাকা পাবেন দুটি কিস্তিতে। একবার রবি চাষের সময়, আরেকবার খরিফ মরশুমে। পেনশন প্রাপকদের কথাও ভেবেছেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। রাজ্যের হেলথ স্কিমে এতদিন ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস সুবিধা পেতেন তাঁরা। সরকারি প্যানেল ভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় ২ লক্ষ টাকা অতিক্রম করলে, বাড়তি খরচের ৭৫ শতাংশ এবার থেকে ক্যাশলেস হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ