রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: ‘আমি যদি মানুষের কথা শুনতে পারি, আপনারা কী এমন বড় নেতা হয়ে গিয়েছেন যে শুনবেন না! শুনতে আপনাদের হবেই। শুনতে আপনি বাধ্য।’ বুধবার আরামবাগের কালীপুরে স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাঠে নির্বাচনি জনসভা থেকে দলের নেতা-প্রার্থীদের উদ্দেশে এমনই নির্দেশ দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘সিনিয়রদের সম্মান দিয়ে ছাত্র, যুব ও মহিলাদের কাছে ডেকে সবাই কাজ করবে। যে করবে না তার থেকে আমার বড় শত্রু কেউ হবে না।’
এদিন দুপুরে মমতা আরামবাগের প্রার্থী মিতা বাগ ও গোঘাটের নির্মল মাজির সমর্থনে নির্বাচনি জনসভা করেন। মঞ্চে খানাকুলের প্রার্থী পলাশ রায়, পুরশুড়ার পার্থ হাজারি সহ সাংসদ মিতালি বাগ, পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর ভান্ডারী প্রমুখ ছিলেন। ভবানীপুর কেন্দ্রে নিজের মনোনয়ন পত্র জমা করেই তিনি হেলিকপ্টারে চেপে আরামবাগের কালীপুরে আসেন। তাঁর আসার আগেই কালীপুরের মাঠ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। দুপুর ১২টা বেজে ২০ মিনিট নাগাদ আরামবাগের আকাশে মুখ্যমন্ত্রীর চপার দেখতে পাওয়া যায়। সভাস্থলে হাজির কর্মী-সমর্থকরা দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে মমতাকে অভ্যর্থনা জানাতে থাকেন। সভাস্থলের মধ্যেই অস্থায়ী হেলিপ্যাডে অবতরণ করে মুখ্যমন্ত্রীও কর্মীদের উদ্দেশ্যে অভিবাদন জানান। তারপরেই সটান মঞ্চে উঠে পড়েন। বক্তব্য শেষ করে দুপুর ১টা নাগাদ ফের চপারে চেপে তিনি চলে যান।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী সভায় বলেন, ‘প্রার্থী সবাই হতে পারে না। কিন্তু বুথ আগলে রাখে কর্মীরা। ব্লক আগলায় কর্মীরা। দলের হয়ে কর্মীরাই বিএলএ ১, ২ দায়িত্ব নিয়ে এসআইআরের কাজ করেছেন। ভোটার তালিকায় নামও তুলছেন তাঁরা। যাঁরা কাজ করেন তাঁরা নিচে বসেন। কিন্তু তাঁদের গুরুত্ব সবথেকে বেশি। পঞ্চায়েত, পুরসভার আমি সেই কর্মীকে ভালোবাসি যে মাটির মানুষের সঙ্গে মেশে। যে মাটিতে চলাফেরা করে। যে নিজের অহংকার করেন না, গর্ব করেন না।’
নেতাদের উদ্দেশ্যে ফের তিনি বলেন, ‘লোকে ১০টা কথা বললে শুনবেন। শুনতে ক্ষতি কী আছে? আমি যদি মানুষের কথা শুনতে পারি আপনারা কী এমন বড় নেতা হয়ে গিয়েছেন যে শুনবেন না! শুনতে আপনাদের হবে। শুনতে আপনি বাধ্য।’ এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করে বলেন, ‘গোঘাট জিতবে তো এবার? ভুলে যান কে প্রার্থী। আমিই দেখব। কাজগুলো আমি করেছি। সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া।’ রাজনৈতিক মহলের দাবি, তৃণমূল নেতাদের একাংশের মধ্যে রয়েছে গোষ্ঠী কোন্দলের কাঁটা। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল চারটি আসনেই বিজেপির কাছে পরাজিত হয়। লোকসভা নির্বাচনে আরামবাগ বাদে বাকি তিন বিধানসভাতেও শাসক দল পিছিয়ে রয়েছে। তাই মহকুমার চার আসন পুনরুদ্ধারে দলের নেতাদের সুপ্রিমো কড়া নির্দেশ দিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে নাচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। -নিজস্ব চিত্র