নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানির ঘটনা এবার দেশের রাজধানীর বুকে তুলে ধরতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী সোমবার দিল্লিতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাংলার মানুষকে যে-সমস্ত অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়েছে, তার বাস্তব চিত্রটা ওইদিন তুলে ধরবেন বাংলার অগ্নিকন্যা। মমতা সহ ১৫ জনের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সোমবার বিকেল ৪টে নাগাদ বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ।
গত ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অভিষেক স্মরণ করিয়ে দেন, আপনি ‘মনোনীত’ আমরা ‘নির্বাচিত’। ফলে অপরিকল্পিত এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের কী কী সমস্যা হচ্ছে, সেটা বাস্তবিকভাবে বুঝুন। কিন্তু তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষের অসুবিধাকে গুরুত্ব দেয়নি। বরং কমিশনেরই কার্যকলাপে সমস্যার পরিধি বেড়েছে প্রতিদিন। সেখানে রেহাই পাননি ৮০ ঊর্ধ্ব প্রবীণ ব্যক্তিরাও। পরে বারুইপুরের জনসভা থেকে অভিষেকের হুঁশিয়ারি শোনা গিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার তৈরি থাকুন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যাবেন।
এবার উপস্থিত সেই বিশেষ দিন। এসআইআর হয়রানির ইস্যুতে সত্যিই দিল্লিতে পা রখেতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে বাংলার জননেত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে যে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। কমিশনের উদ্দেশে মমতা কী কী প্রশ্ন ছুড়ে দেন, তা নিয়েও তুমুল কৌতূহল রাজনৈতিক মহলের। মমতার সঙ্গে ১৫ জনের প্রতিনিধি দলে কারা থাকবেন, তা নিয়েও চর্চা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের কোনো সদস্য থাকতে পারেন। এছাড়া কমিশনের ভোটার তালিকার খাতায় যাঁরা ‘মৃত’, কিন্তু বাস্তবে ‘জীবিত’, এমন কয়েকজন ব্যক্তিও থাকতে পারেন। ফলে সব মিলিয়ে মমতার দিল্লি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। মমতার সঙ্গে দিল্লিতে থাকবেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাছাড়া মমতা যে সময় দিল্লি যাচ্ছেন, সেইসময়ে সংসদে বাজেট অধিবেশন চলবে। ফলে তপ্ত থাকবে দেশের রাজনৈতিক মহল। দিল্লিতে গিয়ে কমিশনে সাক্ষাৎ ছাড়াও মমতার আর কী কী কর্মসূচি, তার দিকে নজর থাকবে রাজনীতির কারবারিদের। তবে বুধবার মমতা ও অভিষেকের দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কারণে সফরসূচি বদল করেন মমতা ও অভিষেক।
অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের পর জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা কলকাতায় এসে মমতার বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বুধবার কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে ওমর আবদুল্লা বলেন, আমাদের লক্ষ্য মমতা দিদির হাত শক্ত করা, যাতে বাংলায় বিজেপির প্রবেশ না-হয়। বিজেপির যত বেশি প্রার্থী পরাজিত হয়, সেদিকেই আমাদের নজর। পাশাপাশি ওমর আরো উল্লেখ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিদিন বিজেপির মোকাবিলা করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সমস্ত এজেন্সিকে নামিয়ে দিয়েছে বিজেপি। কিন্তু দিদি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। দিদিকে ভয়কে পেয়েছে বিজেপি। দিদির বিজেপি বিরোধী লড়াই তুলনাহীন। ঘটনাচক্রে ওমরের কলকাতা সফরের ২৪ ঘণ্টা আগে, কলকাতায় দাঁড়িয়ে মমতার লড়াইয়ের ভূয়সী প্রশংসা সহ তাঁর পাশে থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে যান অখিলেশ যাদব। এবার মমতার পাশে ওমর আবদুল্লাও।