নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের অন্যতম কারণ ছিল সিঙ্গুর আন্দোলন। টাটা গোষ্ঠীর জন্য বেআইনিভাবে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হার না মানা সেই লড়াইয়ের জেরে ৩৪ বছরের বাম জমানার পতন হয়েছিল। ১৫ বছর পর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের সংবাদ শিরোনামে সেই সিঙ্গুর। যে জমিতে টাটা গোষ্ঠীর কারখানা হওয়ার কথা ছিল, গত রবিবার সেখানে সভা করে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তবে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে শিল্প থেকে কৃষি, কোনো কিছু নিয়েই ইতিবাচক ঘোষণা ছিল না। তাঁর ফিরে যাওয়ার ১০ দিনের মাথায়, আগামী ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরের মাটিতেই পালটা সভা করতে চলেছেন বাংলার অগ্নিকন্যা। লক্ষ্য একটাই—আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে বিজেপির মৃত্যুঘণ্টা বাজানো! এসআইআর পর্বেসোধারণ মানুষের চূড়ান্ত হয়রানির প্রতিবাদও জানাবেন মমতা। পাশাপাশি আম জনতাকে উপহার দেবেন একগুচ্ছ প্রকল্প। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে বাংলার ২০ লক্ষ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাকা বাড়ি তৈরির টাকাও তিনি পাঠাবেন সিঙ্গুরের মাটি থেকে।
প্রশাসনিক অনুমোদন সত্ত্বেও বাংলার মানুষকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা দেয়নি নরেন্দ্র মোদি সরকার। দু’বছরের বেশি সময় ধরে তা আটকে। এর প্রতিবাদেই বাংলার বাড়ি প্রকল্প চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী। গত রবিবার বাংলায় জঙ্গলরাজের অভিযোগ তুললেও, আবাসের বরাদ্দ না দেওয়া নিয়ে টু শব্দটি করেননি প্রধানমন্ত্রী। এই অপমানের বদলা হিসাবে এবার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের টাকা সিঙ্গুর থেকেই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহল সূত্রে খবর। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথমবার ১২ লক্ষ প্রান্তিক মানুষকে এই প্রকল্পের টাকা দেয় রাজ্য সরকার। এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ২০ লক্ষ রাজ্যবাসীর মাথায় পাকা ছাদের স্বপ্ন সত্যি করতে নবান্ন বরাদ্দ করেছে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা। আগামী ২৮ জানুয়ারি ২০ লক্ষ উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে পাঠাবেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, বেশ কিছু উপভোক্তার হাতে বাংলার বাড়ির শংসাপত্র এবং অনুদানের চেক তুলে দেবেন তিনি নিজে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৬ লক্ষকে বাড়ি তৈরির সহায়তা প্রদানের কথা ছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তা বাড়িয়ে ২০ লক্ষে নিয়ে গিয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা অনুযায়ী টাকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিতেও নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে। বাংলার বাড়ির পাশাপাশি অন্তত ন’হাজার মানুষের হাতে জমির পাট্টাও তুলে দিতে পারেন মমতা। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার পাট্টা দেওয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। আরও ছ’হাজারের প্রস্তুতি চলছে।
ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সভা ঘিরে সিঙ্গুরে উন্মাদনা চরমে। জেলার নেতা-মন্ত্রীদের নিয়ে প্রাথমিক বৈঠকও সেরে ফেলেছেন প্রশাসনিক কর্তারা। টাটা চলে গেলেও, সিঙ্গুরের অন্যান্য জায়গায় একাধিক শিল্প স্থাপন হয়েছে। কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে উঠেছে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ হাব। ফলে সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভা ভোটের আগে দলীয় কর্মীদের লড়াইয়ের অক্সিজেন জোগাবে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।