নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: দু’দিনে মুর্শিদাবাদে চারটি সভা করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমদিকেই নতুন প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করার সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন। আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করে তিনি মালদহে যাবেন।
তৃণমূল সূত্রে খবর, ১ এপ্রিল বীরভূমের নানুরে সভার পর মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টারে বড়ঞায় চলে আসবেন। সেখানে ডাকবাংলো কিষান মান্ডির মাঠে দলীয় প্রার্থী প্রতিমা রজকের হয়ে জনসভা করবেন। এই প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক এবার প্রথম তৃণমূলের টিকিটে লড়াই করছেন। সেই সভার পর হেলিকপ্টারে নবগ্রামে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ভোলাডাঙা ফুটবল গ্রাউন্ডে নতুন প্রার্থী প্রণবচন্দ্র দাসের হয়ে জনসভা করবেন। তারপর কপ্টারে করে বহরমপুর স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাডে এসে নামবেন মমতা। সেখান থেকে ৫০০মিটার দূরে শিল্পতালুকে একটি হোটেলে তিনি রাত্রিবাস করবেন।
পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তৃণমূল সুপ্রিমো হেলিকপ্টারে চেপে সাগরদিঘি যাবেন। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাসের হয়ে জনসভার পর সূতিতে গিয়ে ইমানি বিশ্বাসের সমর্থনে সভা করবেন। এরপর মালদহের বৈষ্ণবনগরে তৃতীয় সভার জন্য চলে যাবেন।
মমতার দু’দিনের ঠাসা শিডিউল নিয়ে ব্যস্ত শাসকদল। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যস্ত পুলিশও। তিনি যে হোটেলে রাত্রিবাস করবেন, সেটি নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে। হোটেল থেকে হেলিপ্যাড যাওয়ার পথেও পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পুরো এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। প্রতিটি সভাস্থলে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি হচ্ছে। সভামঞ্চে ওঠানামার পথে মুখ্যমন্ত্রী মানুষের আবেগ দেখে অনেকসময় তাঁদের খুব কাছাকাছি চলে যান। সেজন্য প্রচুর সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সভার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শাসকদলের নেতারা।
তৃণমূলের বড়ঞা(দক্ষিণ) ব্লক সভাপতি মাহে আলম বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর জনসভার প্রস্তুতি তুঙ্গে। এখানে রেকর্ড ভিড় হবে। এই এলাকা থেকেই মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রচার শুরু করবেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বড়ঞা বিধানসভার হাজার হাজার কর্মীসমর্থক তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য মুখিয়ে আছেন।
শাসকদলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার(ডেভিড) বলেন, পরপর দু’দিন মুর্শিদাবাদ জেলায় দিদির কর্মসূচি রয়েছে। তাঁর থাকার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য পুলিশও কাজ শুরু করে দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর চারটি সভার মধ্যে তিনটি শাসকদলের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলায় হবে। ওই জেলার তৃণমূল সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সভার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছি।