


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার নবনিযুক্ত রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সৌজন্যের সাক্ষী রইল রাজভবন। প্রথম দিনেই প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রবিকে বাংলা সংস্কৃতির পাঠ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথামাফিক শপথ গ্রহণ পর্বের পর সস্ত্রীক রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীর ফটো সেশনের সময় কথা হয় দু’জনের। রাজ্যপালকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা সংস্কৃতি ও কৃষ্টির ভূমি। এখানকার মানুষ খুব ভালো। যাঁরা বাংলাকে ভালোবসেন, বাংলার মানুষও তাঁদের ভালবাসে।’ এই কথার মধ্যেই রাজ্যপাল এবং তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী রবিকে উত্তরীয় পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান মমতা। রাজ্যপালকেও মুখ্যমন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘বাংলা হচ্ছে ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী।’ বৃহস্পতিবার রাজভবনে নবনিযুক্ত রাজ্যপালকে শপথবাক্য পাঠ করান কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তবে বিজেপি এবং কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতাকে অনুষ্ঠানে দেখতে পাওয়া যায়নি। শপথ গ্রহণ পর্ব শুরু হওয়ার আগেও সৌজন্যের নজির রাখেন মমতা। সকালে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে দ্বিতীয় সারিতে বসে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসতেই মমতা বলেন, ‘বিমানদা, পিছনে কেন? আপনি সামনে আসুন না।’ পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বসেছিলেন প্রথম সারিতে ঠিক মুখ্যমন্ত্রীর পাশের চেয়ারে। তাঁকে বিশেষ কাজের জন্য তড়িঘড়ি বেরিয়ে যেতে হয়। সেই চেয়ারেই বিমানবাবুকে বসার জায়গা করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। শপথ গ্রহণের আগেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় রাজ্যপালের স্ত্রীকে। পরবর্তী সময়ে রাজ্যপাল যখন তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আলাপ করিয়ে দিয়ে যান, হালকা মেজাজে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের পরিচয় হয়ে গিয়েছে। আমরা আগেই কথা বলে নিয়েছি। আপনার পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গেও আলাপ হয়েছে। তারাও আমাকে নৈতিকভাবে সমর্থন করবে।’ রাজ্যপালের পরিবার সহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেককেই এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা যায়। নিজস্ব চিত্র