Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রেকর্ড জয়ের সুর বেঁধে দিলেন মমতা, আমাদের সরকার দিয়েছে, আর বিজেপি কেড়ে নিয়েছে: অভিষেক

ভবানীপুর। নিজের কেন্দ্র। এবং প্রথম নির্বাচনি সভা। আর এখান থেকেই ২৬’এর ভোটযুদ্ধের সুর বেঁধে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেকর্ড ব্যবধানে বিরোধীদের পরাস্ত করে আগামীর লক্ষ্য স্থির করলেন তিনি। তৃণমূল কর্মীদের সাক্ষী রেখে মমতার ঘোষণা, ‘বাংলায় জিতে পরের পদক্ষেপ দিল্লি।’

রেকর্ড জয়ের সুর বেঁধে দিলেন মমতা, আমাদের সরকার দিয়েছে, আর বিজেপি কেড়ে নিয়েছে: অভিষেক
  • ২৩ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভবানীপুর। নিজের কেন্দ্র। এবং প্রথম নির্বাচনি সভা। আর এখান থেকেই ২৬’এর ভোটযুদ্ধের সুর বেঁধে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেকর্ড ব্যবধানে বিরোধীদের পরাস্ত করে আগামীর লক্ষ্য স্থির করলেন তিনি। তৃণমূল কর্মীদের সাক্ষী রেখে মমতার ঘোষণা, ‘বাংলায় জিতে পরের পদক্ষেপ দিল্লি।’

Advertisement

নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর রবিবার প্রথম নির্বাচনি সভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে ভবানীপুর বিধানসভার তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে এই সভা হয়। যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ভবানীপুরের প্রার্থী, তাই এই কেন্দ্র থেকেই প্রচার শুরু করেছেন তিনি। অহীন্দ্র মঞ্চের সামনে আসতেই শঙ্খ-উলুধ্বনিতে ‘ঘরের মেয়ে’ মমতাকে বরণ করে নেন মহিলারা। আর তাই কর্মিসভার শুরুতেই বাংলার অগ্নিকন্যা বলেন, ‘ভবানীপুর আমার মা। মাকে প্রণাম করেই রাজ্যজুড়ে নির্বাচনি প্রচারে বেরোচ্ছি। আর দিদি হিসাবে আমার তৃণমূলের সব ভাই-বোনকে দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছি, প্রচার এগিয়ে নিয়ে যেতে। কে কোন দায়িত্বে আছেন ভুলে যান, মনে রাখুন, আমি-আপনি সবাই কর্মী।’
এরপর কর্মীদের কাছে মমতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন, গত ১৫ বছরে মা-মাটি-মানুষের সরকার বাংলার জন্য কী কী করেছে। কেন্দ্রের শাসক দলে থাকা বিজেপিকে সরাসরি তাঁর আক্রমণ, ‘ওরা মানুষকে রান্নার গ্যাস দিতে পারে না, কিন্তু নির্বাচন আসলেই ক্যাশ দেয়। টাকার বান্ডিল নিয়ে হাজির হয়ে যায় ভোট কিনতে। কিন্তু মানুষ ওদের সঙ্গে নেই।’ এই একই সুরে কণ্ঠ মেলান তাঁর সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষকে সুবিধা দিচ্ছে। কিন্তু মোদি সরকার কেড়ে নিচ্ছে।’ তৃণমূলের জয়ের পরিসংখ্যানের নিরিখে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে শীর্ষে তুলে আনার ডাক দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘ভবানীপুরের প্রত্যেকটা বুথে গতবার জয়ের যা ব্যবধান ছিল, তা বাড়াতে হবে। অন্তত ৬০ হাজারের বেশি ভোটে জিততে হবে।’
এসআইআর, প্রশাসনিক বদলি এবং কমিশনের তুঘলকির অভিযোগ এবারের ভোটকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণও করেছেন মমতা। তাঁর ক্ষোভের বিস্ফোরণ, ‘তিনদিনে পঞ্চাশ অফিসারকে বদলি করে দিয়েছে। যাঁরা প্রশাসনিক কাজে ছিলেন, তাঁদের সরানো হয়েছে। এখন রাজ্যে যদি কোনো ঘটনা ঘটে, তার দায় নরেন্দ্র মোদি এবং ভ্যানিশ কুমারকেই নিতে হবে।’ 
একইসঙ্গে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূল কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছেন নেত্রী। তাঁর আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত চক্রান্ত হতে পারে। তা রুখে দিতে হবে। কর্মীদের প্রতি মমতার বার্তা, ‘জয় বাংলা বলার জন্য আমাদের দু’জন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই বারবার বলছি, কোনো প্ররোচনায় পা দেবেন না। বিজেপি বাইরের লোক এনেছে। সতর্ক থাকবেন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাবেন। আর স্ট্রংরুম ভালোভাবে পাহারা দেবেন। ওরা আবার লোডশেডিং করাতে পারে। তাই ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ ময়দান ছেড়ে যাবেন না।’ অভিষেকেরও স্পষ্ট বার্তা, ‘আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। প্রত্যেককে চেষ্টা করতে হবে, নিজেদের এলাকায় অন্তত পাঁচটা করে ভোট বাড়ানোর।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ