


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা: গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। বহু চর্চিত ও বহু প্রতীক্ষিত এই দীর্ঘ সেতুর শিলান্যাস হল সোমবার। শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ হবে বলেই আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এটি যে জননেত্রীর একটি স্বপ্নের প্রকল্প, তাঁর বক্তব্যেই তা স্পষ্ট হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গঙ্গাসাগর সেতু তৈরি হয়ে গেলে আমি মানসিকভাবে শান্তি পাব। কারণ, মেলা চলাকালীন আমি একটু চিন্তিতই থাকি। জলপথে পারাপার হওয়া নিয়ে চিন্তা থেকে যায়। কখন যে কী ঘটে! সেতু তৈরি হয়ে গেলে সেই চিন্তা আর থাকবে না। আজকে আমি বাংলা, বিশ্বের মানুষ ও পুণ্যার্থীদের জন্য গর্ব বোধ করছি।
এই ব্রিজ রাজ্যই তৈরি করবে বলে যখন ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন বিরোধীরা এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। এদিন নিন্দুকদের উদ্দেশে কড়া বার্তাই ছিল মমতার বক্তব্যে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যা বলি, তা করে দেখাই। শুধু মুখে বলি না, কাজ করি।
আগে ভাবা হয়েছিল যে, এই সেতু শেষ করতে পাঁচবছর লাগবে। কিন্তু এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, দু-তিন বছরের মধ্যেই সবটা হয়ে যাবে। সেতু সম্পূর্ণ হয়ে গেলে সবার কতটা সুবিধা হবে, তাও বিস্তারিত জানান মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, স্থানীয় তিন লক্ষ মানুষের যাতায়াতসহ বিভিন্ন সুবিধা হবে। আনাগোনা বাড়বে পর্যটকদের। প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত ত্রাণ পাঠাতেও এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এদিকে, এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জন্য ২,৩২৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল গদখালি থেকে গোসাবা পর্যন্ত রোরো জেটির উদ্বোধন। এর মাধ্যমে এবার পর্যটকরা কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে সরাসরি সুন্দরবনের পাখিরালয় পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারবেন। আগে গদখালি ঘাটে গাড়ি রেখে নৌকায় নদী পেরিয়ে যেতে হত, সেই ঝক্কি আর থাকবে না। কাজটি করেছে রাজ্যের সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তর।
অনুষ্ঠানে ছিলেন বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল এবং বিডিও-সহ সরকারি আধিকারিকরা। এছাড়া বাসন্তী, পাথরপ্রতিমা, গোসাবাসহ সুন্দরবনের একাধিক স্থানে কয়েকটি জেটির ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ১২০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণের শিলান্যাস করা হয়। বহু রাস্তা, টিউবওয়েল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক বিবিধ কাজেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাজুড়ে ২ লক্ষ ২৬ হাজার মানুষকে বিভিন্ন পরিষেবাও প্রদান করা হয় এদিন।