নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আজ, বুধবার হুগলির সিঙ্গুরে সভা করতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সভা ঘিরে আরামবাগ মহকুমাতেও উন্মাদনা তুঙ্গে। সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন আরামবাগ মহকুমা এলাকার বাসিন্দারা। নতুন কিছু ঘোষণা করেন কি না, সেদিকেও রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরের সভাস্থল থেকে আরামবাগ মহকুমা এলাকার একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করতে পারেন। তাঁর হতে ধরে গুচ্ছ প্রকল্পের শিলান্যাসও হতে পারে।
হুগলি জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, সম্প্রতি যেসব প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী সেগুলির উদ্বোধন করতে পারেন। একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস হতে পারে। সমগ্র বিষয়টি রাজ্য থেকেই দেখা হচ্ছে। ফলে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত আমাদের জানা নেই। তবে, বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনের জন্য ব্লকপিছু তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরামবাগ মহকুমার কয়েকজন বিডিও বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তাদের সিঙ্গুরের সভায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অনুষ্ঠানের দর্শক হিসেবেও বহু উপভোক্তাকে সিঙ্গুরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে প্রশাসন।
গোঘাট-১ পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ প্রদীপ রায় বলেন, আমাদের ব্লক এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ করিয়েছেন। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি নতুন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। তার তালিকা আগেই জেলায় পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হয়তো সেগুলির উদ্বোধন করতে পারেন।
খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মিন্টু পাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সভার জন্য এলাকা থেকে বহু মানুষ যাবে। সকলের যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে সভা করছেন। হুগলি জেলার মধ্যে আরামবাগ মহকুমার বাসিন্দাদেরও সেখানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় উদ্যোগেও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাস, ছোটো গাড়ির পাশাপাশি ট্রেনে চড়ে মানুষজন সিঙ্গুরের সভায় যাবেন। আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। তাই আজকের সভার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন অনেকেই।
তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী বলেন, আরামবাগ মহকুমার প্রতিটি বিধানসভা থেকে কর্মীরা মুখ্যমন্ত্রীর সভায় যাবেন। সেইমতো নেতৃত্ব কর্মীদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল ও পুরশুড়া বিধানসভা থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মীরা যাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে এদিন থেকেই মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা লক্ষ্য করা গিয়েছে।