Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সতেরো বছর পর নানুরে মমতা, দিদিকে দেখতে মুখিয়ে কর্মীরা

দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর বুধবার নানুরের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নানুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বিধানচন্দ্র মাঝির সমর্থনে জনসভা করবেন তিনি।

সতেরো বছর পর নানুরে মমতা, দিদিকে দেখতে মুখিয়ে কর্মীরা
  • ৩০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা,  বোলপুর: দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর বুধবার নানুরের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নানুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বিধানচন্দ্র মাঝির সমর্থনে জনসভা করবেন তিনি। এই জনসভা ঘিরে নানুর ব্লকজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে।  নানুরের এই সভা নিছক রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। অনেক দলীয় কর্মী -সমর্থক বলছেন, দিদির সভার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অতীতের স্মৃতি, আবেগ এবং ইতিহাস। ২০০০সালের ২৭জুলাই সূচপুরের গণহত্যার ঘটনার পর বারবার নানুরে ছুটে এসেছেন মমতা। তখন তিনি কখনও রেলমন্ত্রী, কখনও বিরোধী নেত্রী। শেষবার এসেছিলেন ২০০৯ সালে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নানা প্রশাসনিক ব্যস্ততায় আর সরাসরি নানুরে আসা হয়ে ওঠেনি। ফলে প্রায় দেড় দশক পর ‘দিদি’ এলাকায় আসায় মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস রয়েছে।

Advertisement

‘দিদি’ আবেগকে সামনে রেখেই সংগঠনিকভাবে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।  পাপুড়ির আল আমিন মিশন মাঠে সভা হবে। ইতিমধ্যেই সেখানে হেলিপ্যাড তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। পাশাপাশি দ্রুতগতিতে বিশাল মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। প্রায় ৭০হাজার মানুষের সমাগমের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে দল। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বম্ব স্কোয়াড, দমকল এবং পুলিশের বিশেষ দল সভাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ড্রোন ক্যামেরায়ও নজরদারি চালানো হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য আকাশপথের পাশাপাশি সড়কপথও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। হেলিকপ্টারের ট্রায়ালও শুরু হবে বলে জানা গেছে। জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর অন্যান্য নির্বাচনী সভার মতোই এখানে কড়া নিরাপত্তা বলয় থাকবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার ও আধিকারিক মোতায়েন করা হবে। সভায় যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না ঘটে তারজন্য বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।
তৃণমূলের সাংগঠনিক প্রস্তুতিও তুঙ্গে। নানুর বিধানসভার ১৭টি অঞ্চলে পাড়ায় পাড়ায় প্রস্তুতি বৈঠক প্রায় শেষ। চলছে প্রচার, মাইকিং, পতাকা টাঙানো ও কর্মী সমাবেশের কাজ। তৃণমূল প্রার্থী বিধানচন্দ্র মাঝি বলেন, এটা শুধু রাজনৈতিক সভা নয়, মানুষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ। মুখ্যমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য সাধারণ মানুষও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তৃণমূলের নানুর ব্লক সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য জানান, প্রতিটি অঞ্চলে প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। কোথাও কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না। আমাদের নেত্রী আসছেন, তাই কর্মীরা বাড়তি উৎসাহ নিয়ে কাজ করছেন।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এই সভা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত বিধানসভা নির্বাচনে নানুরে তৃণমূল প্রার্থী প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। লোকসভা নির্বাচনে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭৬হাজারে। সেই আত্মবিশ্বাসকে সামনে রেখেই এবারের নির্বাচনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইছে শাসকদল। নানুরের দায়িত্বে থাকা কাজল শেখ হাসনে প্রার্থী হয়েছেন। সেকারণে তাঁর উপর রয়েছে দু’টি কেন্দ্রের চাপ। নিজের প্রচারের সঙ্গে নানুরের সংগঠনও সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। ফলে দুই কেন্দ্রেই ভোটের ব্যবধান কতটা হবে তা নিয়েও দলীয় কর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নানুরের শহিদ পরিবারগুলিকে শ্রদ্ধা জানানো ও সেই ইতিহাসকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ