সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: আজ, শনিবার ‘জঙ্গল সুন্দরী কর্মনগরী’ রঘুনাথপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভা করতে আসছেন। এদিন তিনি রঘুনাথপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী হাজারি বাউরির সমর্থনে সভা করবেন। নিতুড়িয়া ব্লকের ইনানপুর হাট ময়দানে জনসভা হবে। পরে কাশীপুরের সেবাব্রতী সংঘের মাঠে জনসভা করবেন। জনসভা থেকে জননেত্রী কী বার্তা দেন, সেই দিকেই সকলে তাকিয়ে রয়েছেন। এর আগে রঘুনাথপুরে যতবার মুখ্যমন্ত্রী প্রচারে এসেছেন, তাঁর বার্তায় শিল্পের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে এলাকায় একাধিক কারখানা গড়ে উঠেছে। তাই এবার শিল্পের বিষয়ে নতুন কী বার্তা দেন, তা শোনার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন নেতা কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ। রাজ্য শিল্প উন্নয়ন নিগমের তরফে ঘোষণা করা হয়, ২৪৮৩ একর জমির উপর ৭২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে শিল্প গড়ে উঠবে। ইতিমধ্যে রঘুনাথপুর বিধানসভায় নিতুড়িয়ায় নতুন একটি সিমেন্ট কারখানা চালু হয়েছে। মদনডি এলাকার স্টিল প্রস্তুতকারক কারখানার সম্প্রসারণ হয়েছে। লছমনপুর এলাকায় বৃহৎ স্টিল প্রস্তুতকার কারখানা গড়ে উঠেছে। ঝাড়ুখামার, শুড়িসগড়া(ধটাড়া) এবং সিউলিবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় তিনটি কারখানা গড়ার ভূমিপূজা ও সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু হয়েছে। রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। সাঁতুড়িতে বন্ধ থাকা একটি স্টিল প্রস্তুতকারক কারখানা চালু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্ন ডানকুনি থেকে বর্ধমান-দুর্গাপুর হয়ে আসানসোল এবং বড়জোড়া-বাঁকুড়া- রঘুনাথপুর পর্যন্ত শিল্পকরিডর তৈরি করা হবে। বাস্তবে তা অনেকটা সফলও হয়েছে। তবে রঘুনাথপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী মামনি বাউরি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে এলাকার একটি ছোট মাঠে জনসভা করতে হচ্ছে। শিল্পায়নের নামে এলাকার মানুষ দূষণ ছাড়া কিছু পায়নি। স্থানীয়দের কাজ নেই। বদলে বহিরাগতদের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাই মানুষ তৃণমূলের কথায় আর ভুলবে না। তৃণমূল প্রার্থী হাজারি বাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মুখে যা কথা বলেন কাজে করে দেখান। তিনি যতগুলি প্রকল্প করার কথা ঘোষণা করেছিলেন, সব করেছেন। শিল্পায়নের ফলে এলাকায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাই মানুষ তৃণমূলের প্রতি আস্থা রাখছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ভাঁওতা ছাড়া কিছু দেয়নি। আজ মুখ্যমন্ত্রী আসছেন। তাঁর বার্তা শোনার জন্য কর্মীরা মুখিয়ে রয়েছেন।



