প্রীতেশ বসু, কলকাতা: কখনও প্রবল ঝড়বৃষ্টি। কখনও তীব্র দাবদাহ। কিছুই দাবিয়ে রাখতে পারেনি তাঁকে। বিজেপির বাংলা দখলের ‘অপচেষ্টা’ রুখে দিতে টানা ৩৫ দিন ছুটে বেড়িয়েছেন গোটা বাংলায়। ছুঁয়েছেন ২০০-র বেশি বিধানসভা কেন্দ্র, যা নির্বাচনি প্রচারের ক্ষেত্রে রেকর্ড বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, প্রচারের পিচে ডবল সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত ২৫ মার্চ উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ি টাউন ক্লাব মাঠে এবারের প্রথম নির্বাচনি জনসভা করেন মমতা। তার আগের দিনটাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ওই দিন রাজনৈতিকভাবে বিজেপি বধের সুর বেঁধে দেন বাংলার অগ্নিকন্যা। উত্তরবঙ্গে পৌঁছেই তিনি চলে যান চালসার বাতাবাড়ি মহাবারি চার্চে। সেখানে একটি অনুষ্ঠানে বিজেপি শাসিত ওড়িশার ঢেঙ্কানলে খ্রিস্টানদের উপর হামলার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলে দেশের চিরাচরিত ঐতিহ্য ও বহুত্ববাদের কথা স্মরণ করিয়ে দেন মমতা। পরের দিন সভা থেকে হাজার হাজার মানুষের জমায়েতকে সাক্ষী রেখে বিজেপির বাংলা দখলের চক্রান্ত ভেস্তে দেওয়ার আহ্বান জানান। এসআইআরের নামে বাংলার যোগ্য ভোটারদের নাম কাটা এবং ধর্মের নামে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিকভাবে বদলা নেওয়ার ডাক দেন তিনি। মাঝে শুধু রমনবমীর দিনটি বাদ দিলে সোমবার পর্যন্ত প্রতিদিন তিন- চারটি জনসভা এবং পদযাত্রা করেছেন মমতা। জরুরি কাজের জন্য রমনবমীর দিনে তাঁকে কলকাতায় ফিরতে হলেও সেদিন বিকালেই তিনি রওনা হয়ে যান দুর্গাপুরের উদ্দেশে। পরের দিন সভা করেন পাণ্ডবেশ্বর এবং দুবরাজপুরে।
যে বিধানসভা এলাকার নেত্রীর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার পার্শ্ববর্তী একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীও সেখানে উপস্থিত থেকেছেন। দেখা যাচ্ছে, এই ৩৫ দিনে ৯৪টির বেশি জনসভা এবং ১৮টি পদযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। যার ভিত্তিতে ২৩ এপ্রিল বউবাজারের জনসভা থেকে মমতা বলেন, ‘আমি কিছু না হলেও ২০০ বিধানসভা কেন্দ্র টাচ করেছি। বহু জেলায় ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রা। লু বইছে। তাতেও র্যালি করেছি। অভিষেকও করেছে। দেব সহ অন্যান্যরাও করেছে।’
২৩ এপ্রিল ছিল উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ। কাল, ২৯ এপ্রিল বাকি ১৪২ কেন্দ্রের মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে চলেছেন। সোমবারই ছিল প্রচারের শেষ দিন। এদিন যাদবপুর সুলেখা মোড় থেকে গোপালনগর মোড় পর্যন্ত মেগা র্যালির মধ্যে দিয়ে এবারের মতো তাঁর নির্বাচনি প্রচার শেষ করেন মমতা। তবে দু’দিনে ভোট হওয়ায় একদিনে একাধিক জেলায় সভা করতে হয়েছে তাঁকে। এমনও হয়েছে, যেদিন তিনি এক দিনেই তিনটি জেলায় সভা এবং পদযাত্রা করেছেন। একাধিকবার গিয়েছেন উত্তরবঙ্গে। পয়লা বৈশাখে ইসলামপুরে জনসভা সেরে তিনি চলে যান শিলিগুড়ি। সেখানে পদযাত্রা করে দিনের তৃতীয় কর্মসূচি করেন নাগরাকাটায়। দক্ষিণবঙ্গে শহর, শহরতলি সহ প্রতিটি এলাকায় পৌঁছেছেন তিনি। গোটা রাজ্যে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে লড়াইয়ের পাশাপাশি বিগত কয়েকদিন নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও একাধিক সভা করেছেন মমতা।
বিগত এই একমাসের বেশি সময়ে একাধিকবার কালবৈশাখী এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগকে উপেক্ষা করেও প্রচারে ব্যস্ত থাকতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ২৬ মার্চ অন্ডাল থেকে ফেরার সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে তাঁর বিমান। প্রায় দেড় ঘণ্টা আকাশে চক্কর কেটে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ সম্ভব হয়। এর জন্য তিনি পাইলটদের দক্ষতার সুখ্যাতি করে তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।