নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: এবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সম্মুখ ‘আইনি’ সমরে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। আর উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আজ, সোমবার বিকেলেই দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে মমতার। ঠিক তার আগেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, এসআইআরের নামে চলতে থাকা ভোটার হয়রানির বিরুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেবেন না তিনি। এবং হয়রানি শুধু মানুষের নয়, বিএলও-ইআরও এবং এইআরওদেরও। কমিশনের তুঘলকি নির্দেশনামার জন্য। যেমন, রবিবার বিকেল ৫টার মধ্যে সব জেলাকে শুনানির নোটিস বিলি শেষ করার ফতোয়া জারি করেছিল তারা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেই নোটিস বিলি হয়েছে কি না, তা নিয়ে পুরোপুরি অন্ধকারে কমিশন। কারণ কোনো জেলা থেকে নির্দেশ কার্যকারের রিপোর্ট আসেনি বলেই সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে।
দিন কয়েক আগেই কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন সিইও মনোজ আগরওয়াল-সহ দপ্তরের আধিকারিকরা। সেখানেই রাজ্যে এসআইআরের শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিল বেঞ্চ। তারপর সিইওর তরফে জেলাগুলিকে নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়, সব নোটিস ইস্যুর কাজ শেষ করে ফেলতে হবে শনিবারের মধ্যে। এবং রবিবারের মধ্যে সেই সব নোটিস বিলির কাজ সেরে ফেলতে হবে। অর্থাৎ ১ কোটি ৪৭ লক্ষের একজনও যেন বাকি না থাকে। একাধিক জেলা যদিও দাবি করছে, নির্দেশ মতো তারা এই কাজ সম্পন্ন করেছে। অথচ, কমিশন (সিইও অফিস) সরকারিভাবে কিছুই জানে না। নোটিস বিলি যদি শেষ না হয়ে থাকে, আগামী সাত দিনের মধ্যে কীভাবে শুনানি সম্পূর্ণ করার নির্দেশ কার্যকর হবে, সে নিয়েও সংশয় থেকে যাচ্ছে।
রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় এখনও লক্ষ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি। ইআরওরা দাবি করছেন, এত কম সময়ে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের শুনানি স্বাভাবিক অঙ্কেই সম্ভব না। এখানেই শেষ নয়, এর আগে কমিশন নির্দেশ জারি করেছিল, শুনানির পর সমস্ত নথি আপলোডের কাজ সঙ্গে সঙ্গে করতে হবে। এছাড়াও যে সংখ্যক শুনানি হয়েছে, সেইসব নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে ২৬ জানুয়ারি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল কমিশন। সমস্ত জেলাকে এই মর্মে রিপোর্টও দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সূত্রের খবর, সেই রিপোর্টও কোনো জেলা থেকে জমা পড়েনি। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত কত সংখ্যক মানুষের শুনানি হয়েছে এবং কত সংখ্যক নথি আপলোড ও যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে, তা নিয়েও ঘোর অন্ধকারে কমিশন।
এই পরিস্থিতিতে আগামী বুধবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে তৃণমূলের দায়ের করা পুরানো মামলার শুনানি রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে একগুচ্ছ প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে কমিশনকে। আর ওই মামলার সঙ্গেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলাটির শুনানির জন্যও আবেদন করা হবে বলেও জানা গিয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ছ’টি চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা। রাজনৈতিক মহলের মতে, দিল্লিতে সাক্ষাতের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ পত্রাঘাতের পাশাপাশি মামলা দায়ের করে জ্ঞানেশের উপর চাপ জোড়া তৈরি করতে চাইছেন মমতা। -নিজস্ব চিত্র