নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আগামী সোমবার হুগলির অন্যতম পরিচিত পুণ্যতীর্থ ফুরফুরা শরিফে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফুরাফুরা শরিফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেদিন তিনি সেখানে পীরজাদাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেবেন। ওইদিন পীর আবু বক্কর সিদ্দিকির প্রয়াণ দিবস। ফুরফুরা শরিফে সেই দিনটি বিশেষভাবে পালিত হয়। ফুরফুরার পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি বলেন, একটি পুণ্যতিথিতে বাংলার অভিভাবিকা আমাদের ফুরফুরা শরিফে আসছেন। যা খুবই আনন্দের। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার বহু আগে থেকেই তিনি ফুরফুরা নিয়ে সংবেদনশীল। মুখ্যমন্ত্রী নিজে আমাকে বলেছেন যে, ফুরফুরার ঐতিহ্যের কথা তাঁর প্রয়াত মা তাঁকে বলেছিলেন। আমরা তাঁর কাছে কিছু দাবিদাওয়া রাখব। বিশেষ করে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ নিয়ে আমাদের একটি আবেদন আছে।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর আসন্ন সফর ঘিরে শনিবার থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। শনিবারই হরিপাল, জাঙ্গিপাড়া থানার পুলিস অফিসার ও গ্রামীণ পুলিসের একটি দল ফুরফুরা শরিফ পরিদর্শন করে। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক কিছু পরিকল্পনাও এদিন করা হয়েছে। পীরজাদা মহলেন সঙ্গে রাজনৈতিক আবর্তেও মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার ফুরফুরায় এসেছেন। পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি রাজনৈতিক মহলে মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। আবার, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পর্ব থেকে ফুরফুরার পীরজাদাদের একটি অংশ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতায় ময়দানে নেমেছিলেন। তাঁরা আইএসএফ নামে একটি রাজনৈতিক দলও তৈরি করেছেন। সেই দলের একজন বিধায়কও আছেন। পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকি বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বিধায়ক। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে কমবেশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। সেই পর্বে মুখ্যমন্ত্রীর ফুরফুরা সফর স্বভাবতই রাজনৈতিক মহলে বিস্তর চর্চা শুরু হয়েছে।