


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের ‘খাঁটি সোনা’ দিয়ে নতুনভাবে দল সাজাতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পথে হাঁটাও শুরু করলেন তিনি। তবে নতুন লড়াইয়ের আগে প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যাঁরা রং বদলাচ্ছেন, তৃণমূল থেকে বেরিয়ে চলে যেতে চান, তাঁরা যেতে পারেন। আমি কাউকে আটকাব না।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীদের নিয়ে শুক্রবার বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ছিলেন দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ইতিমধ্যে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে খবর এসেছে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কেউ কেউ অন্তর্ঘাত করেছেন। দলের প্রার্থীকে হারানোর চেষ্টা চলেছে কোনো কোনো জায়গায়। যাঁরা দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন, তাঁদের খুঁজে বের করতে চান নেতৃত্ব। পরাজিত প্রার্থীদের কাছ থেকে সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। নেত্রী আরো জানিয়েছেন, দলকে যাঁরা ভালোবাসেন, নতুনভাবে লড়াই-সংগ্রাম শুরু হবে তাঁদের নিয়েই।
বৈঠকে মমতার বার্তা, মনোবল চাঙা করে একজোট হয়ে লড়াই চাই। কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর সময় এটা। ঘরছাড়া কর্মীদের ঘরে ফেরানো জরুরি। তাদের তালিকা পুলিশ-প্রশাসনকে দিন এবং সেটি দলকেও পাঠান। যাবতীয় আইনি সহযোগিতা দলই দেবে। বৈঠকে অভিষেক বলেন, পার্টি অফিসগুলি খুলুন। বিজেপির ‘ভোটচুরি’ এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনার প্রতিবাদে ব্লক ও টাউনে কর্মসূচি করুন। সেই সূত্রে মমতাও জানান, ভাঙা পার্টি অফিসগুলি মেরামত করে ফের সাজাতে হবে। আমি নিজেও দলীয় কার্যালয় রং করব।
অন্যদিকে, ভোট-পরবর্তী হিংসা-পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে আজ, শনিবার থেকে বিভিন্ন জেলায় যাবে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম। টিম আজ যাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও হুগলিতে। এদিনের বৈঠকে গরহাজির ছিলেন সোহম চক্রবর্তী ও সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার ভোটের ফল ঘোষণার পর বিতর্কিত নেতা সব্যসাচী দত্ত গিয়েছিলেন নেত্রীর বাড়িতে।
দলীয় বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী।-নিজস্ব চিত্র