Bartaman Logo
২৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঋতব্রতর তৃণমূলে ‘ঠাঁই নেই’ মমতা-অভিষেকের, নতুন কমিটির চেয়ারম্যান অরূপ রায়

ঋতব্রত তৃণমূলের নতুন কমিটিতে মমতা ও অভিষেক বাদ, চেয়ারম্যান হলেন অরূপ রায়। বাংলার রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তন। বিস্তারিত পড়ুন।

ঋতব্রতর তৃণমূলে ‘ঠাঁই নেই’ মমতা-অভিষেকের, নতুন কমিটির চেয়ারম্যান অরূপ রায়
  • ২৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মমতার ঠাঁই হল না ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এ। সোমবার সন্ধ্যায় বাংলার রাজনীতির নতুন দেওয়াল লিখন। 

Advertisement

‘আদি’ তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই রয়েছেন। ঠিক সেই অবস্থায় ‘নব্য’ তৃণমূল শিবির ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি বা জাতীয় কর্ম সমিতি গঠন করে নিল। সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সন হলেন মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়। অর্থাৎ রাজনীতির কারবারিদের ব্যাখ্যায়, মমতার জায়গায় অরূপ! আর কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তৃণমূলের নতুন শিবিরের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে এলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান ও বিপ্লব মিত্র।
ধাক্কা যে এত বড়ো আসতে চলেছে, তা বোধহয় সোমবার সকাল পর্যন্ত টের পাননি তৃণমূলের ছোটো-বড়ো-মাঝারি কোনো মাপের নেতাই। সকাল থেকে রাজ্য বাজেট নিয়ে তুমুল চর্চা চলছিল। সেদিকেই নজর রাখছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গীরা। কিন্তু বিকালের পর বাংলার রাজনীতির যাবতীয় নজর চলে গেল নিউটাউনে। পাঁচতারা হোটেলে ঋতব্রত তৃণমূলের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল স্পেশাল সেশন বা বিশেষ অধিবেশনের। সেখানেই সিদ্ধান্ত হল মমতা ও অভিষেককে সরিয়ে নয়া কমিটি গঠনের। যে স্পেশাল সেশন ডাকা হয়েছিল, তার ব্যানারই যাবতীয় উত্তর দিয়ে দেয়। ওই ব্যানারে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা থাকলেও, ছিল না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। বরং ছিলেন বি আর আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নজরুল ইসলাম। ৩০ মিনিটের ‘স্পেশাল সেশন’। আর হাজির তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের ৬০ জনের বেশি বিধায়ক। এছাড়াও বাসে চাপিয়ে নিউটাউনের ওই হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কলকাতা পুরসভার ৬০-৬৫ জন কাউন্সিলারকে। বিশেষ বৈঠকে হাজির ছিলেন পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলার তৃণমূল নেতারা। এমনকি মমতা তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে সৌরভকেও দেখা গিয়েছে ঋতব্রতর বৈঠকে।
ওই বৈঠকেই জাতীয় কর্ম সমিতি গঠন করে মমতা-অভিষেককে পুরোপুরি বাদ দিয়েছে ঋতব্রত তৃণমূল। ৩০ জনের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। সহ সভাপতি হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন। কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, ফিরহাদ (ববি) ও অরূপ বিশ্বাস ছিলেন মমতার প্রধান দুই রাজনৈতিক সঙ্গী। এদিন ওঁরা দু’জনই সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় মমতাকেই কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দিলেন। ঋতব্রতর দাবি, ‘আমরাই তো তৃণমূল কংগ্রেস। নিয়ম মেনেই কমিটি গঠন করেছি। তা আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানাব। আগামী দিনে কলকাতায় পার্টি অফিস হবে। আর তৃণমূলের অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করা হোক।’ তবে ঋতব্রতর খোঁচা, ‘অভিষেককে নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
নতুন কমিটি গঠন করার খবর সামনে আসার পরে ববি-অরূপ বিশ্বাস সহ আটজনকে শো’কজ করে মমতা তৃণমূলের কমিটি। সূত্রের খবর, এদিন দলের বৈঠকে মমতা বলেছেন, ‘যাঁরা দলের সঙ্গে বৈইমানি করেছেন, তাঁরা বেরিয়ে যাক। আমি নতুনভাবে দল সাজাব।’ মমতাপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘পার্টির একটি গঠনতন্ত্র আছে। হঠাৎ করে কমিটি গঠন করা যায় না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ