নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সোমবার দু’টি পৃথক অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। একদিকে গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু সত্ত্বেও দ্রুত চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ। অন্যদিকে, হাঁটুর অস্ত্রোপচারের জন্য ১৫ দিনের বেশি সময় ভরতি থাকার পরও অপারেশন না করে রেফারের অভিযোগ ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। দু’টি ক্ষেত্রেও এমএসভিপির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে দাবি পরিজনদের।
দত্তপুকুরের অন্তঃসত্ত্বা সুজাতা দাস গত শুক্রবার বারাসত মেডিকেল কলেজে ভরতি হন। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভরতি হওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিন কেটে গেলেও শিশুকে বের করতে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিবারের সদস্য তারকদাসী দাসের অভিযোগ, মেয়ের পেটের মধ্যে বাচ্চা মারা গিয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান শুক্রবার। তারপর থেকে আমরা প্রতিদিন জানতে চাইছি, কবে অপারেশন হবে বা কী চিকিৎসা করা হবে। কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না। মৃত সন্তান পেটের মধ্যে নিয়ে একজন মা দিনের পর দিন হাসপাতালে পড়ে আছে অথচ কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। হাসপাতালের এমএসভিপি অভিজিৎ সাহা বলেন, গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হলে নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রোটোকল মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হয়। সবক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচার সম্ভব নয়। রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এতে রোগীর কোনো সমস্যা হবে না।
চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে দ্বিতীয় অভিযোগ তুলেছে মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সি স্বপ্না চক্রবর্তীর পরিবার। পরিবারের দাবি, হাঁটুর সমস্যার কারণে অস্ত্রোপচার করানোর উদ্দেশ্যে গত ৮ জুন তাঁকে বারাসত মেডিকেল কলেজে ভরতি করা হয়। চিকিৎসকরা প্রথমে অস্ত্রোপচারের আশ্বাস দিলেও দিনের পর দিন কেটে গিয়েছে। কখনও পরীক্ষা, কখনও কাগজপত্র, কখনও অন্য কারণ দেখিয়ে অপারেশন পিছিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
স্বপ্নাদেবীর বউমা তনিমা চক্রবর্তী বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল অপারেশন হবে। সেই বিশ্বাসে আমরা রোগীকে ভরতি করিয়েছিলাম। কিন্তু ১৫ দিনেরও বেশি সময় হাসপাতালে কাটানোর পর অস্ত্রোপচার হল না। প্রতিদিন নতুন অজুহাত দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত অপারেশন না করেই সোমবার শ্বাশুড়িকে রেফার করা হল। এনিয়ে এমএসএভিপি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বলতে পারব। নিজস্ব চিত্র