Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আজ সিঙ্গুরে সভা সেরেই দিল্লিতে মমতা, এসআইআর হয়রানির বিরুদ্ধে আন্দোলন রাজধানীতে

২৩ জানুয়ারি রেড রোডে নেতাজি জয়ন্তীর মঞ্চ থেকেই এসআইআর হয়রানির বিরুদ্ধে ‘দিল্লি চলো’র ডাক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ সিঙ্গুরে সভা সেরেই দিল্লিতে মমতা, এসআইআর হয়রানির বিরুদ্ধে আন্দোলন রাজধানীতে
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২৩ জানুয়ারি রেড রোডে নেতাজি জয়ন্তীর মঞ্চ থেকেই এসআইআর হয়রানির বিরুদ্ধে ‘দিল্লি চলো’র ডাক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পাঁচ দিনের মধ্যে দিল্লির রাজপথে সাধারণ মানুষের দুর্দশা নিয়ে গর্জে উঠবেন বাংলার অগ্নিকন্যা। আজ, বুধবার সিঙ্গুরে সভা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। জমি আন্দোলনের মাটি থেকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ‘বাংলা বিরোধী’ গেরুয়া শিবিরের রাজনৈতিক পতনের ডঙ্কা বাজাবেন তিনি। তারপরই তিনি দিল্লি উড়ে যাবেন ‘কেন্দ্র-কমিশন আঁতাতের’ বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঢেউ তুলতে। এসআইআরের কারণে বাংলায় মৃত্যু মিছিল এবং যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরব হবেন তিনি।

Advertisement

২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে লোকসভার অধিবেশন। সেদিনই মমতার রাজধানীতে পৌঁছে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। দলের সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে এসআইআর আবহে পরিষদীয় রাজনীতিতে তাঁর দলের রণকৌশলও ঠিক করে দেবেন তিনি। সেই সঙ্গে বাংলায় এসআইআর আতঙ্কে মৃতের পরিবারের সদস্য ও জীবিতকে ‘মৃত’ দেখিয়ে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া যোগ্য ভোটারদের নিয়ে নির্বাচন সদনে বৃহত্তর আন্দোলনে শামিল হবেন মমতা। সংসদের বাজেট অধিবেশনে এই আন্দোলন ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলতে চলেছে এবং বিরোধী শিবির বাড়তি অক্সিজেন পাবে বলে মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা। সিঙ্গুরের সভা সেরে কপ্টারে কলকাতা বিমানবন্দরে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে দিল্লির বিমান ধরবেন। ২০২৩ সালে অক্টোবর মাসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১০০ দিনের কাজের টাকার দাবিতে আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছিল নয়াদিল্লি। এসআইআর ইস্যুতে  মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছিলেন তিনি। এবার এই ইস্যুতে মমতার দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলনের দিকেই নজর রয়েছে সমস্ত মহলের।

গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গুরে সভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টাটার প্রকল্পের মাঠেই সভা করেন তিনি। সেখানে তিনি শিল্প-কৃষি নিয়ে কোনো দিশা দেখাতে পারেননি বলে সমালোচনার ঢেউ উঠেছে। রাজ্যের বকেয়া প্রসঙ্গে নিশ্চুপ থাকা নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল। এই আবহে আজ, বুধবার বাংলার ২০ লক্ষ প্রান্তিক মানুষের হাতে ‘বাংলার বাড়ি’র দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম কিস্তির টাকা তুলে দেবেন তিনি। সেই সঙ্গে সিঙ্গুরের ইন্দ্রখালি মাঠের সভা থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। করবেন পাট্টা বিলি, বাংলার  শস্য বিমার ক্ষতিপূরণ প্রদান, সুফল বাংলার গাড়ি উদ্বোধন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের শিলান্যাস ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের সূচনা। সিঙ্গুরের সভার আগের দিন নবান্ন সভাঘর থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নবরূপে নির্মিত সিরিটি মহাশ্মশানের উদ্বোধন করেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, ‘যারা বলছে, বাংলা থেকে শিল্প চলে যাচ্ছে, তারা ভুল বলছে। হাওড়া থেকে দুর্গাপুর যান, রাস্তার দু’ধারে দেখবেন কী কী কাজ হয়েছে। কত শিল্প সংস্থা এসেছে।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘আমি বন্‌঩ধের বিরোধী। পরিকাঠামো উন্নয়ন কী কী হয়েছে, দেখুন। আমরা চাই, যারা বাইরের রাজ্যে কাজ করছেন, তাঁরা ফিরে আসুন।’ সেই সঙ্গে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে সমস্যা হলে সরাসরি মুখ্যসচিব, শিল্পসচিবের সঙ্গে কথা বলার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ