নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর কেন্দ্রিক ইনিউমারেশন ফর্ম নিয়ে মঙ্গলবার থেকে বাড়ি বাড়ি যাওয়া শুরু করবে নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত বিএলও’রা। আর সেদিনই পথে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দিন দুপুর দেড়টার সময় কলকাতার রেড রোডের বি আর আম্বেদকর মূর্তির সামনে থেকে শুরু হবে তৃণমূলের মিছিল। শেষ হবে রবি ঠাকুরের জোড়াসাঁকোয়। নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূলের দাবি থাকবে, একজন প্রকৃত ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়। আগামী এক মাসের বিরাট প্রস্তুতি নিয়ে ভোটার তালিকায় বিশেষ ঝাড়াই - বাছাইয়ের কাজ শুরু হচ্ছে ৪ নভেম্বর থেকে। ওই দিন ইনিউমারেশন ফর্ম দেওয়ার সঙ্গে ভোটারদের তথ্য যাচাই করবেন বিএলও’রা। এই কাজে নির্বাচন কমিশন যেন কোনওভাবেই পক্ষপাতিত্ব না করে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না দেয়, সেই দাবি তুলেছে তৃণমূল। তার জন্য দলের তরফে নিযুক্ত বুথ লেভেল এজেন্ট-২’দের কাছে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিএল ওদের ছায়া সঙ্গী হিসেবে কাজ করতে হবে এক মুহূর্তের জন্য বিএলওদের ছাড়া যাবে না। ঘটনাচক্রে বিএলওরা যেদিন থেকে বাড়ি যাওয়া শুরু করবেন সেদি ই পথে নেমে বাংলার সর্বস্তরের মানুষকে বার্তা দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার ভোটার তাঅলিকায় থাকা প্রায় ৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে তিনি যে রয়েছেন, এই বার্তাটাই কলকাতার রাজপথ থেকে জানান দেবেন মমতা। ইতিমধ্যে এসআইআর-এনআরসি আতঙ্কে পানিহাটির বাসিন্দার আত্মহত্যার ঘটনায় মমতার নিশানায় পড়েছে নির্বাচন কমিশন। মমতা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, প্রকৃত ভোটারদের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকুক, তাঁরা ভালো থাকুন। সেই সূত্রেই আগামী মঙ্গলবার মমতার কথায় এসআইআর সংশ্লিষ্ট কোন কোন বিষয় উঠে আসে, কিংবা আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে তিনি কোনও নির্দেশ দেন কি না, তা নিয়ে কৌতূহল রাজনৈতিক মহলের। আর রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্য হল মমতা মিছিল শুরু করছেন সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেদকরের মূর্তিকে সামনে রেখে। এসআইআর ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভয়-ভীতি, আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, সেখানে সংবিধান প্রণেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলার আপামর মানুষের পাশে থাকার শপথ নিতে চলেছে মমতা। তাঁর সঙ্গে ওইদিনের গোটা কর্মসূচিতে থাকবেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে তিনিও নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ গেলে, দিল্লি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে আন্দোলন।



