নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বেশ কয়েক বছর ধরে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। অবশেষে তাঁকে সাসপেন্ড করা হল। ঘটনাকে ঘিরে প্রবল জলঘোলা শুরু হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের মল্লিকপুর আব্দাস সকুর হাইস্কুলে।
২৮ আগস্ট মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় চিঠি দিয়ে প্রধান শিক্ষক অঞ্জন দাসকে সাসপেন্ড করার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি শুভাশিস সাউ বলেন, ২০২০ সাল থেকে হিসেবে গরমিল পাচ্ছিলাম। শিক্ষকরাও আমার কাছে বলছিলেন অনিয়মের কথা। ম্যানেজিং কমিটির তরফে জেলা পরিদর্শকের অফিসে অভিযোগ করা হয়।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, অঞ্জনবাবুর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ বছরের শুরুতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিদর্শকের অফিসে জমা পড়েছিল। তদন্তকারী দল স্কুলে গিয়ে সব কিছু খতিয়ে দেখে। তারা যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, স্কুল রং করার খরচ, কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা অপব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। বিভিন্ন খরচের রশিদ ও কাগজ দেখাতে বলা হলেও প্রধান শিক্ষক তা দেখাতে পারেননি। স্কুল পরিচালন সমিতির অনুমতি ছাড়াই খরচ করেছেন প্রধান শিক্ষক। অনেক বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন বা কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে, নিশ্চুপ ছিলেন তিনি। তদন্তে অসহযোগিতা করার অভিযোগও আনা হয়েছে ওই রিপোর্টে। এখানেই শেষ নয়। গত বছর স্কুলের গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বিদেশ ভ্রমণ করেছিলেন অঞ্জনবাবু। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মহলকে জানাননি। এমনকী স্কুল খোলার পর আটদিন ছুটি কাটিয়েছেন। এই বিষয়ে তাঁকে তদন্তকারী দল প্রশ্ন করলে, প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, তিনি অসুস্থ ছিলেন। অথচ ডাক্তারের কোনও সার্টিফিকেট দেখাতে পারেননি। এই রিপোর্ট ডি আই অফিস থেকে পর্ষদে জমা পড়ার পর সেটা পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ করা হয়েছে।
সব অভিযোগ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অঞ্জনবাবু। তিনি বলেন, চক্রান্ত করে মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে। বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি পরামর্শ নিচ্ছি। আদালতে মামলা করারও চিন্তাভাবনা রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের সাসপেনশনে অভিভাবকরা হতবাক। তাঁদের মতে, এতে আখেরে স্কুলের নাম
খারাপ হবে।