পরামর্শে আভা সার্জি সেন্টার-এর কর্ণধার বিশিষ্ট আইভিএফ স্পেশালিস্ট ডাঃ বাণী মিত্র।
পরামর্শে আভা সার্জি সেন্টার-এর কর্ণধার বিশিষ্ট আইভিএফ স্পেশালিস্ট ডাঃ বাণী মিত্র।
হাজার চেষ্টার পরেও কোলে আসছে না সন্তান। সাধারণত এমন ক্ষেত্রে আঙুল নারীর দিকেই ওঠে। তবে জানলে অবাক হবেন, সন্তানহীনতায় পুরুষের ভূমিকাও থাকে যথেষ্ট।
কী বলছে পরিসংখ্যান
ইনফার্টিলিটির যত কারণ আছে, তার মধ্যে ৩০-৪০ শতাংশ এককভাবে মেল ফ্যাক্টর ইনফার্টিলিটি এবং ৪০-৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে ফিমেল ফ্যাক্টর ইনফার্টিলিটি। লাইফস্টাইল পরিবর্তন, দেরিতে বিয়ে, কর্মক্ষেত্রে প্রবল চাপ, নেশাদ্রব্যে আসক্তি, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন— এমন নানা কারণে ক্রমেই বাড়ছে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব।
উপসর্গ
কিছু কিছু বিষয় পুরুষের বন্ধ্যাত্ব ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন, আগে মাম্পস হলে, টেসটিসে অপারেশন হলে, টেসটিস বাদ গেলে, হাইপারথাইরয়েড, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন বা অন্য কোনও বিশেষ ধরনের অসুখ থাকলে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্পার্ম এবং বন্ধ্যাত্বের সম্পর্ক
অলিগোস্পার্মিয়া: এই সমস্যায় প্রতি মিলিলিটার সিমেনে স্পার্মের সংখ্যা ৩ কোটির কম থাকে।
অ্যাস্থেনোজুস্পার্মিয়া: এই ক্ষেত্রে স্পার্মের মোটিলিটি বা সক্রিয়তা অনেক কম থাকে।
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হল, পুরুষের সিমেনে স্বাভাবিক স্পার্মের মাত্রা কতটা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, সিমেনে ৪ শতাংশ পর্যন্ত স্বাভাবিক আকারের স্পার্ম থাকলেই হবে।
সমাধান
সিমেনে একটিও স্পার্ম নেই বা যেসব ক্ষেত্রে টেসটিসে কোনো শুক্রাণু তৈরিই হচ্ছে না, এমন ক্ষেত্র ছাড়া বাকি সবক্ষেত্রে বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে পিতা হওয়া সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় অনেকের স্পার্ম তৈরি হলেও স্পার্ম বেরনর পথ থাকে না বা অবরুদ্ধ হয়ে থাকে। তাদের ক্ষেত্রে টেসটিস থেকে সরাসরি স্পার্ম বার করে এগ-এ ইনজেক্ট করে ভ্রুণ তৈরি করা সম্ভব। তবে বন্ধ্যত্ব বিষয়টি শুধু স্পার্ম কাউন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। স্পার্ম কাউন্টের সঙ্গে স্ত্রীর ফার্টিলিটিরও একটি যোগাযোগ থাকে। ফলে ফার্টিলিটি ড্রাগ দিয়ে কতটা উন্নতি হবে আর কোন ক্ষেত্রে ‘আইইউআই’ বা ‘আইভিএফ’-এর প্রয়োজন হবে তা চিকিত্সক নির্ধারণ করেন।
রোগ পরীক্ষা
স্পার্ম টেস্ট করা দরকার।
কিছু ব্লাড টেস্ট করারও দরকার পড়তে পারে। যেমন এফএসএইচ এবং থাইরয়েড লেভেল, ব্লাড সুগার ইত্যাদি। সিরাম টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করারও প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে যাঁদের লিবিডো বা ঘনিষ্ঠ শারীরিক সম্পর্ক করার ইচ্ছা কম থাকে।
এগুলির পর স্পার্ম ফাংশন টেস্ট করা যেতে পারে। স্পার্ম ফাংশন টেস্ট-এ মূলত দেখা হয় ডিএনএ ফ্রাগমেন্টেশন ইনডেক্স (ডিএফআই)। পুরুষের উর্বরতা যাচাইয়ে ডিএফআই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বা ধূমপানে স্পার্মের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সাধারণত ৩০ শতাংশ ডিএফআই-কে স্বাভাবিক সীমার সর্বোচ্চ হিসেবে ধরা হয়। এর বেশি হওয়া মানে উর্বরতা হ্রাস পাওয়া। এমন ক্ষেত্রে আগাম চিকিৎসা নিয়ে সন্তানের পরিকল্পনা করা উচিত।
মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট
স্পার্মের সংক্রমণ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। সংখ্যা কম থাকলে দিতে হবে সঠিক ড্রাগ।
স্পার্মের অন্যান্য জরুরি ফাংশনাল কম্পোনেন্টগুলো কম থাকলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা ওষুধ দেওয়া হয়।
ফলো-আপ খুব জরুরি। ওষুধ প্রয়োগের দুই-তিন মাস পরে আবার টেস্ট করে দেখা দরকার, শারীরিক অবস্থার কতটা উন্নতি হল এবং স্বাভাবিক প্রেগনেন্সি সম্ভব কি না।
স্বাভাবিক প্রেগন্যান্সি না এলে
আইভিএফ ভালো উপায়। সিমেনে একটি স্পার্ম থাকলেও এই চিকিত্সা করা যায়। প্রয়োজনে টেসটিস থেকে সরাসরি স্পার্ম বের করে সন্তানের পিতা হওয়া সম্ভব।
রোগ প্রতিরোধ
পুরুষ বন্ধ্যাত্ব অনেকাংশেই রোধ করা সম্ভব। দীর্ঘসময় ধরে ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করুন। ত্যাগ করুন ধূমপান, মদ্যপানে আসক্তি। তেল, ঝাল, মশলাদার খাদ্য কম খান।
এক্সারসাইজ করুন। ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক