Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

আশ্চর্য আবিষ্কার: টুথপেস্ট ও টুথব্রাশ

টুথপেস্ট ও টুথব্রাশের ইতিহাসে অসাধারণ পরিবর্তন এসেছে। প্রাচীন পদ্ধতি থেকে আধুনিক প্রযুক্তি, বিস্তারিত পড়ুন।

আশ্চর্য আবিষ্কার: টুথপেস্ট ও টুথব্রাশ
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান অসংখ্য অসাধারণ আবিষ্কারের ফসল। সেগুলি নিয়ে চলছে এই বিভাগ।

Advertisement

•  শিশুকাল থেকে শেখানো হয়, সকালে উঠেই হাত-মুখ ধোও। এই মুখ ধোয়ার আবশ্যিক অংশ দাঁত পরিষ্কার করা। 
 হাজার হাজার বছর আগে মানুষ দাঁত পরিষ্কার করার জন্য বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টুথব্রাশ ও টুথপেস্টের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। প্রাচীনকালে ব্যাবিলন ও মিশরের মানুষ দাঁত পরিষ্কার করার জন্য গাছের ছোটো ডাল ব্যবহার করত। ডালের একদিক চিবিয়ে আঁশের মতো বানিয়ে নিত। এখনও বহু মানুষ নিমের দাঁতন ব্যবহার করেন এই উপায়ে। মিশরের পুরনো মমিতে এমন দাঁত পরিষ্কার করার কাঠি পাওয়া গিয়েছে। পরে চীনের মানুষ সুগন্ধযুক্ত গাছের ডাল ব্যবহার করত, যাতে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। পঞ্চদশ শতকে চীনের মানুষ প্রথম প্রাকৃতিক ব্রিসলযুক্ত টুথব্রাশ তৈরি করে। তারা শূকরের ঘাড়ের শক্ত লোম ব্যবহার করত এবং সেই লোম পশুর হাড়ের হাতলে লাগাত। এই ধরনের ব্রাশ ইউরোপে পৌঁছায়। ইউরোপের মানুষ শূকরের শক্ত লোমের বদলে ঘোড়ার নরম লোম ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করত। 
১৭৮০ সালে আধুনিক টুথব্রাশ প্রথম তৈরি করেন ইংল্যান্ডের উইলিয়াম অ্যাডিস। পশুর হাড় দিয়ে হাতল তৈরি করেন। তাতে শূকরের লোম লাগান। তাঁর তৈরি ব্রাশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। ১৮৪৪ সালে তিন সারি ব্রিসলযুক্ত ব্রাশ তৈরি হয়। অনেক বছর পর্যন্ত প্রাকৃতিক লোমই ব্যবহার করা হতো। পরবর্তীকালে ডুপন্ট নামের এক কোম্পানি নাইলন আবিষ্কার করলে টুথব্রাশে বড় পরিবর্তন আসে। ১৯৩৮ সালে নাইলনের ব্রিসলযুক্ত আধুনিক টুথব্রাশ তৈরি হয়। ১৯৫০ সালে নরম নাইলনের ব্রাশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কারণ মানুষ বেশি আরামদায়ক মনে করত। ১৯৬০-এর দশকে আমেরিকায় ‘ব্রক্সোডেন্ট’ নামে বৈদ্যুতিক টুথব্রাশ বাজারে আসে। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ৫ হাজার বছরে মিশরীয়রা দাঁত পরিষ্কার করার জন্য প্রথম টুথপেস্ট ব্যবহার শুরু করেন। তখনও ব্রাশ আসেনি। গ্রিক ও রোমানরাও দাঁত পরিষ্কারের জন্য বিভিন্ন ধরনের গুঁড়ো ও পেস্ট ব্যবহার করত। চীন ও ভারতের মানুষও প্রায় ৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে বিভিন্ন গুঁড়ো, পেস্ট ব্যবহার শুরু করে। প্রাচীন টুথপেস্টে ছাই, পোড়া ডিমের খোসা ইত্যাদি ব্যবহার হতো। গ্রিক ও রোমানরা দাঁত পরিষ্কার করার জন্য গুঁড়ো হাড় ও ঝিনুকের খোসা ব্যবহার করত। রোমানরা মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কাঠকয়লার গুঁড়ো ও গাছের ছাল মেশাত। চীনের মানুষ লবন ও বিভিন্ন ভেষজ উপাদান ব্যবহার করত।
উনিশ শতকে আধুনিক টুথপেস্ট তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রথমদিকে সাবান ও চক ব্যবহার করা হতো। আগে টুথপেস্ট গুঁড়ো আকারে ছিল। ১৮৭৩ সালে একটি নামজাদা কোম্পানি জারে টুথপেস্টের ব্যাপক উৎপাদন শুরু করে। ১৮৯০ সালে টিউবের মধ্যে টুথপেস্ট বাজারে আনা হয়, যা আজও চলছে। এই ধরনের টিউব টুথপেস্ট অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়। তবে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে ১৯৪৫ সালের পর টুথপেস্টে সাবানের বদলে অন্য উপাদান ব্যবহার শুরু হয়, যাতে পেস্ট আরও মসৃণ ও ব্যবহারযোগ্য হয়। পরে এল দাঁতের ক্ষয় রোধকারী  ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট। এখনও নানা বিজ্ঞাপনী ঝলকে দেখা যায়, টুথপেস্ট প্রস্তুতকারী বহু সংস্থা নিত্যনতুন উন্নত টুথপেস্ট বাজাতজাত করছে। 
লিখেছেন শান্তনু দত্ত

সম্পর্কিত সংবাদ