Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

১০ হাজারের বদলে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা ফি! বাংলায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ তৈরিই লাটে

হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধের প্রস্তুতি বন্ধ, নতুন ফি ৩ লক্ষ টাকা। রাজ্যের ব্যবসায়ীরা সংকটে, সরকারের কাছে আবেদন। বিস্তারিত পড়ুন।

১০ হাজারের বদলে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা ফি!  বাংলায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ তৈরিই লাটে
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

বিশ্ব‌জিৎ দাস, কলকাতা: দেশে হোমিয়োপ্যাথির পীঠস্থান এই বঙ্গেই। সেখানকারই ওষুধ শিল্প মারাত্মক সংকটের মুখে। এমনই সংকট যে গত দু-সপ্তাহ ধরে রাজ্যের অধিকাংশ ওষুধ নির্মাতার কারখানায় লালবাতি জ্বলার অবস্থা! ফলে অ্যালকোহল নির্ভর হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ তা সে পোটেন্সির ওষুধ (৬, ৩০, ২০০) হোক বা মাদার টিংচার—সবই প্রস্তুতই এখন বিশ বাঁও জলে। দোকানে দোকানে স্টক আর ভিন রাজ্যের কোম্পানিগুলির ওষুধটুকুই যা রয়েছে। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে গত ছ-মাসে রাজ্যের এক্সাইজ কমিশনার এবং বিভাগীয় সচিবকে বহু চিঠি দিয়েছে বেঙ্গল হোমিয়োপ্যাথিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু সুরাহা মেলেনি। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, সারা দেশে হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধের বাজার প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার। তার মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই ৪০০ কোটি। নির্মাতাদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের শেষার্ধ্বে রাজ্য একটি নয়া আইন এনে এই শিল্পের সর্বনাশ করে দিয়েছে। নতুন সরকার তাদের ‘শিল্পবান্ধব’ ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। নির্মাতাদের বক্তব্য, নয়া আইনটি হল ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সাইস (প্রোসিডিয়োর ফর গ্রান্ট অ্যান্ড ফানংশনিং অব লাইসেন্স অ্যান্ড পেমেন্ট অব ফিজ ফর দি ইউজ অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্পিরিট) রুলস ২০২৫। এই আইন অনুসারে নির্মাতারা এর আগে চালু দুটি আইন (বেঙ্গল এক্সাইস অ্যাক্ট এবং মেডিসিনাল অ্যান্ড টয়লেট প্রিপারেশন এক্সাইস ডিউটি অ্যাক্ট) অনুযায়ী আনুমানিক ১০ হাজর এবং এক হাজার টাকা মতো সরকারকে ফি দিতেন। এছাড়া অ্যালকোহল ব্যবহার বাবদ কর দিতেন লিটারপিছু ২০ টাকা। জিএসটি চালুর পর দ্বিতীয় আইনটি উঠে যায়। কোন আইনে এই ব্যবসা পরিচালিত হবে? ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এক্সাইজ শাখার তরফে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হয় তাঁদের। তবু ব্যবসা চলতে থাকে। হঠাৎ, ৩১ ডিসেম্বর একটি গেজেট নির্দেশিকা জারিসহ বেঙ্গল এক্সাইস অ্যাক্টেরই একটি নয়া সংশোধনীতে বলা হয়, সকলে যেন এতে অন্তর্ভুক্ত হন এবং ফি জমা করেন। 
কেমন সেই নতুন ফি? এতে বছর বছর লাইসেন্স নবীকরণ ফি ১ লক্ষ টাকা, নন রিফান্ডেবল রেজিস্ট্রেশন ফি ২৫ হাজার টাকা, প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ  দেড় লক্ষ টাকা, সিকিউরিটি ডিপোজিট বাবদ ১ লক্ষ জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া জিএসটি নেওয়া সত্ত্বেও অ্যালকোহল ব্যবহারের পুরানো খরচ ফিরে এসেছে। মানে লিটারপিছু ২০ টাকা। মানে বড়ো নিমার্তাদের বছরে সেই খাতে প্রায় ২০-২৫ লক্ষ টাকা এবং ছোটো-মাঝারিদের ২-৫ লক্ষ টাকা বেরিয়ে যাবে। 
এই বিষয়ে বেঙ্গল হোমিয়োপ্যাথিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল দেব বলেন, ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি আমরা। নতুন সরকারের কাছে কাতর আবেদন, কিছু একটা করুন। না-হলে বাংলায় এই শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। নবান্নের আমলা মহল জানিয়েছে, ১ এপ্রিল থেকে নয়া আইন কার্যকর হলেও এটা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য এক্সাইস বিভাগের তরফে রাজ্য অর্থদপ্তরকে সুপারিশ করা হয়েছে। আপাতত নবান্নের শীর্ষমহলের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। হোমিয়োপ্যাথি সেক্টরে যাতে আঘাত না-লাগে, তা মাথায় রেখেই পদক্ষেপ করা হবে। মন্ত্রী ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানাচ্ছি। 

সম্পর্কিত সংবাদ