Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মালদহের শ্রমিকদের থানায় নিয়ে গিয়ে হেনস্তা ওড়িশায়

বাংলা ভাষায় কথা বলা অপরাধ! বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্য ওড়িশায় মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের মশালদহ অঞ্চলের তালগাছির ১৯ জন পরিযায়ী শ্রমিককে আটক করে রেখেছে ওই রাজ্যের পুলিস।

মালদহের শ্রমিকদের থানায় নিয়ে গিয়ে হেনস্তা ওড়িশায়
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: বাংলা ভাষায় কথা বলা অপরাধ! বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্য ওড়িশায় মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের মশালদহ অঞ্চলের তালগাছির ১৯ জন পরিযায়ী শ্রমিককে আটক করে রেখেছে ওই রাজ্যের পুলিস। এমনটাই অভিযোগ। বুধবার সকালে কটক জেলার মাহাঙ্গা থানার পুলিস ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। শ্রমিকদের পরিচয়পত্র ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে হেনস্তা ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। গ্রামে এই খবর পৌঁছতেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনরা। শ্রমিকদের দাবি, ওড়িশায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাঁদের ওপর অত্যাচার বাড়ছে। কাজের সন্ধানে সেখানে গিয়ে এভাবে নির্যাতন এবং হেনস্তার শিকার হওয়ায় আতঙ্কে বাড়ি ফিরছেন বহু পরিযায়ী শ্রমিক। 

Advertisement

হেনস্তার শিকার পরিযায়ী শ্রমিক ভোলা আলি বলেন, আমরা মারাঙ্গা থানা এলাকায়  রয়েছি। মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিস এসে আমাদের আধার ও ভোটার কার্ড দেখতে চায়। পরের দিন সকালে ১৯ জন শ্রমিককে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছিল। আধার, ভোটার কার্ড ও মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। আমাদের থানায় হেনস্তা করা হয়। বাকি শ্রমিকরা আতঙ্কে বাড়ি রওনা দিয়েছেন। হরিশ্চন্দ্রপুরের আলাউদ্দিন আলি বলেন, আমার দুই ছেলেকে আটক করে থানায় রেখেছে সেখানকার পুলিস। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। পরিচয়পত্র ও মোবাইল কেড়ে নিয়েছে। বিষয়টি হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় জানিয়েছি। হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রিজিয়া সুলতানা বলেন, হরিশ্চন্দ্রপুর থানা ও ব্লক প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা সেখানকার পুলিস, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। 
জাতীয় বাঙালি শ্রমিক ফেডারেশনের মালদহ জেলার সদস্য মহম্মদ রফিক আহমেদ বলেন,ওড়িশার এক লক্ষেরও বেশি মানুষ বাংলায় কাজ করেন। তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে আমরা কখনও প্রশ্ন করি না। তাহলে বাঙালিদের সঙ্গে এমন হবে কেন?  পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী তাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক এবং নিন্দনীয় ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাব। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি মনোজিৎ সরকার বলেন,সেখানকার পুলিস প্রশাসনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছি। শ্রমিকদের পরিচয়পত্র, এলাকায় কত বছর তাঁরা বসবাস করছেন, সেসব তথ্য পাঠানোর চেষ্টা করছি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ