সংবাদদাতা মালদহ: জেলার তৃণমূল বিধায়কদের বিরুদ্ধে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ এনে বিজেপির পেশ করা চার্জশিট আদপেই জনমানসে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে দাবি মালদহের জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের। বরং মালদহের চার বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে মানুষ যে চার্জশিট দিচ্ছে, তার জবাব বিজেপি দিচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। ফলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমে উঠেছে চার্জশিট রাজনীতি।
গত সোমবার মালদহের আট তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে লিফলেটের ধাঁচে চার্জশিট পেশ করেছিল বিজেপি। মালদহ উত্তরের তৃণমূল বিধায়কদের বিরুদ্ধে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং মালদহ দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়কদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ওই চার্জশিট পেশ করেন। দুর্নীতি, আর্থিক নয়ছয়, ভাঙন রোধে ব্যর্থতা সহ বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরে মালদহের আট তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে সরব হয় বিজেপি।
এবার পালটা বিজেপির বিরুদ্ধে ‘মানুষের চার্জশিট’ নিয়ে আক্রমণ করেছে তৃণমূল। দলের জেলা সভাপতি বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, আসলে বিজেপি নেতৃত্ব না জানার ভান করছে। ঘটা করে চার্জশিট না পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পাঁচালি সময় করে শুনে নিন তাঁরা। তারপরেও আর আমাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশের মুখ থাকবে না। কিন্তু বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে মালদহের চারটি বিধানসভার জনগণ যে চার্জশিট দিয়ে আসছেন তার জবাব দিতে বিজেপি ইতস্তত করছে কেন! আসলে তাদের কাছে কোনও জবাব নেই। তবে, মানুষের চার্জশিটের মুখোমুখি তাদের হতেই হবে।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তথা মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বিজেপি জবাবদিহি চাওয়ার কে? যা বলার মানুষকে বলব। আমরাও আমাদের সরকারের কাজের খতিয়ান মানুষকে জানানোর জন্য পদক্ষেপ করছি।
মালদহ জেলা তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র শুভময় বসুর মন্তব্য, ইংলিশবাজারের মানুষ জানতে চাইছেন ঠিক কখন, কোথায় গেলে বিজেপির বিধায়ককে প্রয়োজনে পাওয়া যাবে। মালদহ বিধানসভার বাসিন্দাদের প্রশ্ন, বিধায়কের জমিদারি হাবভাবের কারণ কী? হবিবপুরের মানুষ জানতে চাইছেন, আদিবাসী কল্যাণে বিধায়ক কতটুকু ভূমিকা পালন করেছেন। গাজোলের মানুষ জানতে চায়, পাঁচ বছরে তাঁদের বিধায়ক ঠিক কী, কী করলেন। মানুষের চার্জশিটের জবাব না দিলে বিজেপি এবার মালদহে শূন্যে পৌঁছনোর প্রস্তুতি নিক।