নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মাখনা চাষে কর্মসংস্থানের নতুন দিশা দেখাচ্ছে মালদহ। জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরে ৭৮ লক্ষ টাকা খরচ করে চালু হতে চলেছে কমন ফেসিলিটি সেন্টার। মালদহ জেলা শিল্পকেন্দ্রের মহা প্রবন্ধক মানবেন্দ্র মণ্ডল বলেন, খুব শীঘ্রই আমাদের কমন ফেসিলিটি সেন্টার চালু হবে। যেটা এই মুহূর্তে একটি পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে মাখনা থেকে স্ন্যাকস সহ নানান বাই প্রোডাক্ট তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মালদহ আমের জেলা হিসেবেই পরিচিত। সেখানে গত কয়েক বছর ধরে নতুন সম্ভাবনার আশা যোগাচ্ছে মাখনা। মালদহের চাঁচল মহকুমার চাঁচল-১, ২ এবং হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ও ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে জলাজমিতে এখন মাখনা চাষ হচ্ছে। এই চারটি ব্লকের পাশাপাশি রতুয়াতেও শুরু করেছেন চাষিরা। ধীরে ধীরে মালদহের মাখনা সারা রাজ্যের বাজার ধরতে তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি লিচু ও রেশমের ক্ষেত্রেও মালদহে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
মাখনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে মালদহে আরও বড় আকারে ফুড প্রসেসিং ইউনিট চালু করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। মালদহ মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক উত্তম বসাক বলেন, রাজ্য সরকারকে আমরাই প্রথম এবিষয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আমরা বিহারের দ্বারভাঙ্গা গিয়ে সেখানকার একটা মাখনা প্রকল্প সরেজমিনে দেখে আসি। এই প্রকল্প গ্রহণযোগ্য হলে ব্যবসায়ীরা ঘরে ঘরে মাখনা উৎপাদন করতে পারবেন।
জলা জমি থেকে প্রথমে মাখনা ফল তুলে আনা হয়। এরপর সেই ফলের দানা শুকিয়ে গ্রেডিং অর্থাৎ দানার মাপ অনুযায়ী পৃথকীকরণ করা হয়। এরপর সেটা রোস্টিং করে কাঠের হাতুড়ি মেরে মাখনা তৈরি করা হয়। এতে পরিশ্রম হয় অনেক বেশি। যেটা এতদিন সম্পূর্ণ হাতে তৈরি করা হতো, সেটাই এবার হবে মেশিনের সাহায্যে।
মালদহে মাখনা তৈরি হলেও শ্রমিক মূলত বিহার থেকেই আনা হতো। এখানে মাখনা তৈরির কমন ফেসিলিটি সেন্টার চালু হলে অনেক কম সংখ্যক শ্রমিকের সাহায্যে স্বল্প সময়ে অনেক বেশি মাখনা উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
যন্ত্রের মাধ্যমে মাখনা তৈরির প্রযুক্তি আইসিএআর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ) লুধিয়ানা থেকে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মেশিন তারাই দিচ্ছে। এখানে আপাতত মাখানা তৈরি করে প্যাকেজিং করা হবে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত পদ্ধতিতে মাখানা থেকে বাই প্রোডাক্ট তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জেলা শিল্পকেন্দ্রের মহা প্রবন্ধক জানান।