নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: কোথাও ছ’মাস, কিছু জায়গায় আবার দু’বছর পার। মেয়াদ উত্তীর্ণ ফায়ার লাইসেন্স নবীকরণ করছে না মালদহ জেলার বিভিন্ন নার্সিংহোম। কোনও কোনও নার্সিংহোমে ফায়ার এক্সটিংগুইশার থাকলেও ঠিক সময়ে রিফিল করা হচ্ছে না। বহু নার্সিংহোমে নেই র্যাম্পের ব্যবস্থা। গাফিলতির এমন ভয়াবহ ছবি ধরা পড়ার পর উঠছে নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন। দমকল বিভাগের মালদহ ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত ডিভিশনাল ফায়ার অফিসার শিবানন্দ বর্মন জানান, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সচেতনতার অভাব রয়েছে। তারা সময়মতো লাইসেন্স রিনিউ করে না। নিয়মিত মক ড্রিলও হয় না। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না।
কয়েকদিন আগে শিলিগুড়ি শহরের একটি নার্সিংহোমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে মালদহ জেলা প্রশাসনও। অবিলম্বে রাজ্যের সমস্ত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফায়ার অডিটের নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। সূত্রের খবর, ছটপুজোর ছুটির পরই এনিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছে জেলা প্রশাসন। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের তরফে দমকল বিভাগকে সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতাল, হোটেল, রেঁস্তরায় সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। দমকল বিভাগের অডিটে ধরা পড়ছে নার্সিংহোমে নানা গাফিলতি।
গাফিলতির দায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের হলেও দমকল বিভাগ বা স্বাস্থ্য দপ্তরের কী কোনও দায়িত্ব নেই? সেই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে। ডিভিশনাল ফায়ার অফিসার বলেন, ফায়ার সেফটি লাইসেন্স ছাড়া কোনও নার্সিংহোম চলতে পারে না। এই লাইসেন্স আমাদের এখান থেকে দেওয়া হয়। সেই লাইসেন্স নির্দিষ্ট সময়ে রিনিউ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের। দমকল বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু নার্সিংহোম ক্ষমতার বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। সেক্ষেত্রে শর্ট সার্কিটের আশঙ্কা সবসময় থেকে যায়। বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় নার্সিংহোমগুলিতে বর্জ্য জমে রয়েছে। ফায়ার সেফটি লাইসেন্স দেওয়ার সময় নিয়মিত মক ড্রিল করতে বলা হলেও বছরে নাকি একবারও করা হয় না।
তাছাড়া ফায়ার সেফটি লাইসেন্স দেওয়ার সময় জলের ট্যাংক বা রিজার্ভার, পাইপ লাইন করতে বলা হয়। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ সেটি তৈরি করলেও একবার লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পর রিজার্ভারে আর জল ভরা হয় না। দেখা গিয়েছে, এক, দু’জন ছাড়া অধিকাংশ কর্মী ফায়ার এক্সটিংগুইশার চালাতে জানেন না। স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ বিশেষ নজরদারি দল নার্সিংহোমে বেশকিছু গাফিলতি চিহ্নিত করেছে। অভিযোগ, মালদহের অধিকাংশ নার্সিংহোমে র্যাম্পের ব্যবস্থা নেই। অগ্নিকাণ্ড ঘটলে সিঁড়ি দিয়ে কীভাবে নামানো হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরও মেলেনি।
শুধু যে জরিমানা করলে পরিস্থিতি বদলাবে না, সেটা বুঝেই এবার হয়তো কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে জেলা প্রশাসন।