নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মালদহের প্রান্তিক আলু চাষিদের বন্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল জেলা প্রশাসন। সেই লক্ষ্যে ক্ষুদ্র চাষি নির্ধারণের কাজ শুরুর নির্দেশ দিলেন জেলাশাসক। আজ, শুক্রবার থেকে ময়দানে নামছে ব্লক পর্যায়ের তিন সদস্যের কমিটি। মালদহ জুড়ে ক্ষুদ্রচাষি চিহ্নিত করতে জন প্রতিনিধিরাও প্রচার চালাবেন বলে জানা গিয়েছে।
এনিয়ে বৃহস্পতিবার হিমঘর মালিক, সমস্ত ব্লকের সহকারী কৃষি আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া। এদিন তিনি জানান, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র আলু চাষিদের জন্য প্রত্যেক হিমঘরে ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ রাখতে হবে। সেবিষয়ে হিমঘর মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ মার্চের মধ্যে প্রশাসনকে মালদহের হিমঘরগুলিতে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিদের চুড়ান্ত তালিকা পাঠাতে হবে। তার আগেই এদিনের বৈঠক থেকে সমস্ত ব্লকের অতিরিক্ত কৃষি আধিকারিকদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক। ইতিমধ্যেই দুটি ব্লক থেকে প্রান্তিক চাষিদের তালিকা এসে পৌঁছেছে প্রশাসনের কাছে। বাকি ১৩ টি ব্লক থেকে খুব শীঘ্রই আলুচাষিদের তালিকা জমা দেওয়ার বিষয়ে জেলাশাসককে আশ্বস্ত করেন ব্লকের কৃষি আধিকারিকরা।
প্রত্যেক ব্লকের কৃষি আধিকারিকরা প্রথমে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র আলু চাষিদের তালিকা তৈরি করবে। ব্লক থেকে সেই তালিকা এসে পৌঁছবে জেলা কৃষি বিপণন দপ্তরে। তারপর দপ্তর জেলাশাসকের কাছ থেকে সেই তালিকার অনুমোদন নেবে এবং চূড়ান্ত করে পাঠানো হবে হিমঘর মালিকদের কাছে। ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় আলুচাষিদের অগ্রাধিকার দিতে হবে সংশ্লিষ্ট হিমঘরকে। সেখানে জায়গা কম পড়লে পাশের হিমঘরের জন্য সংশ্লিষ্ট আলুচাষিরা আবেদন জানাতে পারবেন বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
মালদহ জেলায় ১৫ টি হিমঘর আছে। এর মধ্যে পুরাতন মালদহে হিমঘরের সংখ্যা ৮ টি। এছাড়াও গাজোলে ৫ টি, রতুয়া এবং হবিবপুরে একটি করে হিমঘর আছে। যদিও এর মধ্যে একটি বাদে বাকি হিমঘরগুলিতে আলু মজুত করা হয়। মালদহের এই ১৪ টি হিমঘরের মোট ধারণ ক্ষমতা ১ লক্ষ ৬৯ হাজার ২৬০ মেট্রিক টন। মালদহে এবছর ১০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদিত আলুর পরিমাণ ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন।