Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মালদহ: ভোটের আগে ভাঙন কবলিতদের নিয়ে চর্চা, ক্ষোভ দড়ি টানাটানিতে

মালদহে চার দশকের ভাঙন সমস্যা অব্যাহত। কেন্দ্র-রাজ্য দড়ি টানাটানিতে আখেরে কোনো লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করছেন ভাঙন পীড়িতরা।

মালদহ: ভোটের আগে ভাঙন কবলিতদের নিয়ে চর্চা, ক্ষোভ দড়ি টানাটানিতে
  • ৩০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপন দত্ত, মালদহ: মালদহে চার দশকের ভাঙন সমস্যা অব্যাহত। কেন্দ্র-রাজ্য দড়ি টানাটানিতে আখেরে কোনো লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করছেন ভাঙন পীড়িতরা।

Advertisement

মালদহে ১২টির মধ্যে বিশেষ করে মানিকচক, রতুয়া এবং বৈষ্ণবনগর ভাঙন কবলিত এলাকা। এই তিন বিধানসভার প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে ভাঙন বিধ্বস্তদের একটা বড় ভূমিকা থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, মালদহে ভাঙন পীড়িতের সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ।
ভাঙন রোধ নিয়ে গত চার দশক রাজ্য-কেন্দ্র টানাপোড়েন চলছেই। কখনও রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকার বনাম কেন্দ্রের কংগ্রেস, আবার এখন তৃণমূল সরকারের সঙ্গে বিজেপির দায় ঠেলাঠেলি অব্যাহত। বিজেপির অভিযোগ, ভাঙন রোধের নামে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করছে রাজ্য। অন্যদিকে, রাজ্যের অভিযোগ, ভাঙন জাতীয় বিপর্যয়। অথচ ভাঙন রোধে কেন্দ্রে কোনো আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে না। 
বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, রাজ্য সরকার ভাঙন রোধে যে পরিমাণ পাথর ফেলার কথা বলেছে, তাতে তো পাহাড় হয়ে যাওয়ার কথা! 
অন্যদিকে, তৃণমূলের মালদহ জেলার মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, গঙ্গা জাতীয় নদী। নমামি গঙ্গা প্রকল্পে উত্তরপ্রদেশ, বিহারে গঙ্গার পাড় তৈরি করা হচ্ছে। অথচ বাংলাকে ভাঙন রোধে এক টাকাও দিচ্ছে না কেন্দ্র। রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির মধ্যে ভাঙনের সমস্যা সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে। কয়েক দশক ধরে মানিকচক রতুয়ার একটা বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং বৈষ্ণবনগরের কিছু অংশের মানুষের জীবন ভাঙনে জেরবার। এই তিন বিধানসভা গঙ্গা তীরবর্তী। এখানকার বহু ভোটার গঙ্গা ভাঙনের জেরে কয়েকবার বসতবাড়ি বদল করতে বাধ্য হয়েছেন। মানিকচক বিধানসভার উত্তর চণ্ডীপুর অঞ্চলের বসন্তটোলা ও কালুটোনটোলার দু’টি বুথ গত আগস্টে গঙ্গাগর্ভে তলিয়ে যায়। ওই একই অঞ্চলের কেশরপুর গ্রামের একটা অংশও তলিয়ে গিয়েছে। আগস্ট থেকেই বসন্তটোলা এবং কালুটোনটোলা গ্রামের প্রায় তিনশো পরিবার মাথার উপর ত্রিপল টাঙিয়ে কেশরপুরে গঙ্গার বাঁধে বসবাস করছেন। 
রতুয়া বিধানসভার মহানন্দাটোলা, বিলাইমাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকশো পরিবার ভাঙন কবলিত। এখানে গঙ্গা এবং ফুলহার নদী দুই দিক থেকে গ্রামগুলিকে গ্রাস করছে। 
রতুয়ার মুলিরামটোলা গ্রাম আগস্টে গঙ্গাগর্ভে তলিয়ে যায়। বাসিন্দা নিতাই মণ্ডল বলেন, ভাঙন নিয়ে একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে কথা বলছে। তাদের দায় ঠেলাঠেলির জন্য আমাদের সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। আমরা সেই বাঁধের উপর খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাচ্ছি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ