নির্মাল্য সেনগুপ্ত, মালদহ: বিধানসভা ভোটকে মাথায় রেখে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা দ্রুত খরচের পরিকল্পনা নিয়ে এগচ্ছে মালদহ জেলা পরিষদ। তার জন্য টাকা হাতে আসার আগেই সিংহভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতিগুলি অগ্রিম টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ফেলেছে। এর কারণ, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রথম কিস্তির টাকা হাতে এলেই দ্রুত ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করে উন্নয়নমূলক কাজে হাত দেওয়া। মালদহ জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, প্রতি অর্থবর্ষে দু’দফায় কমিশনের টাকা হাতে আসে। তারপর রাস্তা, পানীয় জল, ড্রেন তৈরির কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পগুলির কাজের জন্য প্রথম দফায় পুজোর আগে বা পরে প্রথম কিস্তির টাকা আসে। তারপর কাজ শুরু হয়। আবার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢোকে মার্চ মাসের পরে। যা দিয়ে সম্পূর্ণ করা হয় প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ। এতে অনেক সময় অর্থবর্ষের সময়সীমা সম্পূর্ণ হওয়ার পরেও কাজ চলতে থাকে। কিন্তু চলতি অর্থবর্ষে (২০২৫-’২৬) বিধানসভা ভোটের জন্য সেই প্রক্রিয়ায় বদল আনা হয়েছে। মালদহ জেলায় মোট ১৪৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ১৫টি পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি পঞ্চায়েত সমিতি ও ১৩০টি গ্রাম পঞ্চায়েত অগ্রিম টেন্ডার করে ফেলেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) শেখ আনসার আহমেদ। জেলা পরিষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে সব ঠিকমতো চললে পঞ্চদশ অর্থ কমিশন থেকে মালদহ জেলা পরিষদ প্রায় ১৭৬ কোটি টাকা পেতে পারে। টাকাটি দু’দফায় খরচ হবে জেলা পরিষদের ত্রিস্তর পরিকাঠামোর মাধ্যমে। এখন সেই প্রস্তুতি চলছে। জানা গিয়েছে, গত এপ্রিল থেকেই এব্যাপারে কাজ শুরু করেছে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। উন্নয়ন জারি রাখতে আরও একটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রত্যেক প্রকল্পের জন্য গড়ে ১৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ বলেন, অগ্রিম টেন্ডার ঘোষণা করা হচ্ছে ঠিকই। তবে, বর্ষার মধ্যে রাস্তার কাজগুলিকে এড়িয়ে গিয়ে পানীয় জল প্রকল্পের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।



