নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: মাল পুরসভার চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ির বিরুদ্ধে ‘ঘুষ’ চাওয়ার অভিযোগ উঠল। পুরসভার কাজের বকেয়া বিল ছাড়তে চেয়ারম্যান ঘুষ চেয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন শিবরতন আগরওয়াল নামে শিলিগুড়ির এক ঠিকাদার। তাঁর দাবি, ২০১৭ সালে তিনি মালবাজার শহরে হাইমাস্ট ল্যাম্প লাগানোর জন্য পুরসভাকে যাবতীয় সামগ্রী সরবরাহ করেছিলেন। এ বাবদ বিল হয় ৫০ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৪৫ লক্ষ টাকা পেয়েছেন তিনি। ফলে বকেয়া ৫ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। ওই টাকার জন্য তিনি বহুবার পুরসভার দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু আজও পেমেন্ট পাননি। শিবরতনের দাবি, বিল ছাড়তে চেয়ারম্যান ও পুরসভার এক অফিসার তাঁর কাছে ঘুষ চেয়েছেন। যদিও ওই ঠিকাদারের তোলা অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি মাল পুরসভার চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ির। রবিবার তিনি বলেন, ওই ঠিকাদারের কাগজপত্র ঠিক নেই। সেটা ধরা পড়ে যাওয়ায় এখন মিথ্যে অভিযোগ করছেন।
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ স্পিড পোস্টে মাল থানায় পাঠিয়েছেন ওই ঠিকাদার। তাঁর দাবি, থানায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও অভিযোগ জানাতে পারিনি। সেকারণে বাধ্য হয়ে শনিবার স্পিড পোস্টে চেয়ারম্যান ও পুরসভার এক অফিসারের বিরুদ্ধে মাল থানায় লিখিত অভিযোগপত্র পাঠিয়েছি।
অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) সমীর আহমেদ অবশ্য এদিন বলেন, এমন কোনও অভিযোগ মাল থানায় জমা পড়েছে বলে আমার জানা নেই। তবে হয়ে থাকলে পুলিস নিশ্চয়ই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।
ঠিকাদারের তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাল পুরসভার চেয়ারম্যানের পাল্টা দাবি, যখন ওই কাজ হয়েছিল, তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন না। ফলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কীভাবে ওই কাজের বরাত পেয়েছিলেন জানা নেই। বকেয়া বিল নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ওই ঠিকাদার। পরবর্তীতে ওই ঠিকাদারের বকেয়া মেটাতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর কাজের কাগজপত্র ঠিক নেই। এমনকী সরকারি প্রকল্পের কাজ পেতে গেলে যেসব নিয়মকানুন মানতে হয়, সেগুলি কিছুই মানা হয়নি। সেকারণে ওই ঠিকাদারের বকেয়া বিল মেটানো হয়নি। পুরসভার ফিনান্স অফিসার কাগজপত্র খতিয়ে দেখছেন। বিষয়টি পুরদপ্তরেও জানানো হচ্ছে।
ঠিকাদার বলেন, আমার কাছে ওয়ার্ক অর্ডারের কপি রয়েছে। কাজ শেষের পর পুরসভার তরফে যে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল, সেটাও রয়েছে।