নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজ্যের সব গ্রামীণ এলাকা উন্মুক্ত শৌচ মুক্ত হিসেবে তকমা পাওয়ার দোরগোড়ায়। কারণ ৩৮ হাজারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০ হাজারের বেশি গ্রাম এই স্বীকৃতি পেয়ে গিয়েছে। কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন থেকে শুরু করে বাড়ি, স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শৌচালয় নির্মাণের উপর জোর দিয়েছিল পঞ্চায়েত দপ্তর। সেই কাজ সব জায়গাতেই দ্রুতগতিতে হয়েছে। ফলে গ্রামগুলি উন্মুক্ত শৌচ মুক্ত বলে তকমা পেয়েছে। চলতি অর্থ বছর শেষের আগেই বাকি গ্রামগুলি যাতে এই তকমা পায়, সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দপ্তর।
গ্রামগুলিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রথম থেকেই কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন ইউনিট তৈরির উপর জোর দিয়েছিল পঞ্চায়েত দপ্তর। বাড়ি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য এদিক-ওদিক যাতে না ফেলা হয়, তার জন্যই এই বিশেষ পদক্ষেপ।
উন্মুক্ত শৌচ মুক্ত গ্রামের তকমা পেতে গেলে এটা মানতেই হবে। এছাড়াও বাড়ি বাড়িতে শৌচালয়ের ব্যবহার করার বিষয়টিও অন্যতম শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। খোলা আকাশের নীচে শৌচকর্মের প্রবণতা সেভাবে আর নেই। কারণ দেড় লক্ষের বেশি বাড়িতে নতুন শৌচালয় নির্মাণ করা হয়েছে।
এনিয়ে বিভিন্ন ব্লক ও পঞ্চায়েত এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন আধিকারিকরা। দেখা যায়, গ্রামগুলি পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নানা কাজ করেছে। জেলা প্রশাসন সবকিছু বিচার করেই সেগুলিকে উন্মুক্ত শৌচ মুক্ত গ্রাম বা ‘ওপেন ডেফিকেশন ফ্রি ভিলেজ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এক আধিকারিক বলেন, গত বছর এপ্রিল মাসে রাজ্যে মাত্র সাড়ে ছয় হাজার গ্রাম পেয়েছিল এই ‘ওডিএফ’ তকমা। তার এক বছর পর সেই সংখ্যা ২৪ হাজার পার করে গিয়েছে।
অন্যদিকে, এক বছর আগেও রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকাতেই আবর্জনা ফেলার মতো কোনও নির্দিষ্ট স্থান ছিল না। সেখানে এখন ২০০০-এর বেশি বর্জ্য নিষ্কাশন ইউনিট তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত শৌচালয় নির্মাণের আবেদনও জমা পড়ছে।
দপ্তরের আশা, আর এক বছরের মধ্যেই গোটা রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন ইউনিট গড়ে উঠবে।