নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: এসআইআর আতঙ্কে অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর আলোড়ন ফেলছে উত্তর শহরতলিতে। সাধারণ মানুষ এসআইআরের ফর্ম হাতে পেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু এসআইআর শুরুর প্রথম দিনে উত্তর শহরতলির সিংহভাগ বুথের বিএলওরা হাতে ফর্ম পেলেন না। ফলে তা মানুষের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিছু বিধানসভা এলাকায় আবার টোকেন হিসেবে প্রতি বিএলওকে পাঁচটি করে ফর্ম দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ওই পাঁচটি ফর্ম বুথে দিয়ে নিজেদের কর্মস্থলে ফিরেছেন। যদিও কমিশনের জেলা কর্তাদের দাবি, বুধবার সকালের মধ্যে সিংহভাগ বিএলও ফর্ম পেয়ে যাবেন। কিন্তু এই আশ্বাসে আতঙ্ক কাটছে না শহরবাসীর।
এসআইআর নিয়ে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, শাসক দলের ক্যাম্প প্রতিটি পুরসভার অফিস ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চালু হয়ে গিয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষের ভিড় জমছে। সকলের মুখে একটাই প্রশ্ন, কই আমাদের বাড়িতে তো কেউ ফর্ম দিয়ে এল না? কবে আসবে ফর্ম দিতে? আজ থেকেই তো চালু হওয়ার কথা। এইসব প্রশ্নের উত্তর দিতে ক্লান্ত শাসক দলের নেতা-কর্মীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, প্রথম দিন প্রয়োজনীয় এসআইআর ফর্ম বিএলওদের দিতে পারেনি কমিশন। তাই সিংহভাগ বিএলও কাজ শুরু করতে পারেননি।
বরানগর বিধানসভা এলাকায় ২৫২টি বুথ রয়েছে। এদিন ৯৭ জন বিএলও ফর্ম বিলি করতে এলাকায় গিয়েছিলেন। বাকিরা ফর্ম না পাওয়ায় হাত গুটিয়ে বসে রয়েছেন। পানিহাটি বিধানসভা এলাকায় ২৫৩টি বুথ রয়েছে। এরমধ্যে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৬০ জন বিএলও ফর্ম নিয়ে এলাকায় গিয়েছিলেন। বাকিরা ফর্ম পাননি। দমদম বিধানসভা এলাকায় ২৭৬টি বুথ রয়েছে। অর্ধেকের বেশি বিএলও ফর্ম পাননি। কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, এদিন বিকেল পর্যন্ত দমদমে ফর্ম পাওয়া বিএলওরা মোট এক হাজার থেকে বারোশো ভোটারকে এসআইআর ফর্ম দিতে পেরেছেন। অন্যদিকে, দমদম উত্তর বিধানসভা এলাকায় ২৮৫টি বুথ রয়েছে। সিংহভাগ বিএলওকে প্রথম দিনের জন্য পাঁচটা করে ফর্ম দেওয়া হয়েছিল। অনেকে আবার সেই পাঁচটি ফর্ম পাননি। এই চিত্র দমদম লোকসভা এলাকার সাতটি বিধানসভায় কমবেশি একই।
তৃণমূলের দমদম-বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি অঞ্জন পাল বলেন, ৭০ ভাগ বিএলও এসআইআর ফর্ম পাননি। তাই এদিন সিংহভাগ বুথে ফর্ম বিলি হয়নি। এই অব্যবস্থার দায়-দায়িত্ব কমিশনকে নিতে হবে। মানুষ চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগে রয়েছেন। সিপিএমের জেলা সম্পাদক পলাশ দাস বলেন, সিংহভাগ জায়গায় বিএলওরা ফর্ম না পাওয়া তা ভোটারদের বিলি করতে পারেননি। ৭০ ভাগ জায়গায় গাইডলাইন মেনে বিএলওরা বিএলএদের সঙ্গে পরিচয় পর্বও সারেনি। বিজেপির কলকাতা উত্তর শহরতলি জেলার সহ সভাপতি কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, সরকার তো এসআইআর ভেস্তে দিতে চাইছে। তৃণমূলপন্থী বিএলওদের অনেকে সমস্যা তৈরি করতে চাইছেন। ফর্ম যেমন অনেক বিএলও পাননি, তেমন ফর্ম পাওয়া অনেক বিএলও বুথে যাননি। আমাদের বিশ্বাস, কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।