সংবাদদাতা, মানিকচক: ভূতনির রিং বাঁধে বড়সড় ধস। গঙ্গা নদীর গ্রাসে বাঁধের বিস্তীর্ণ অংশ। বালির বস্তা দিয়ে ভাঙনের কাজ চললেও অব্যাহত ভাঙন। তাই সোমবার নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান কেশরপুর ও কালুটোনটোলার বাসিন্দারা। অভিযোগ, কাজের নামে কার্যত খালি বস্তা ফেলা হচ্ছে। কম মাটি দিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে এই পরিণতি। যদিও পুলিসি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রায় একমাসের বেশি সময় ভূতনির কেশরপুর, কালুটোনটোলা ও রতুয়ার পশ্চিম রতনপুরে বালির বস্তা দিয়ে ভাঙন রোধের কাজ করছে সেচদপ্তর। তার মধ্যেই পশ্চিম রতনপুরের বিস্তীর্ণ অংশ গঙ্গায় তলিয়ে গিয়েছে। একইভাবে কালুটোনটোলায় বাড়িঘর থেকে স্কুল সমস্তটাই জলের তলায়। বর্তমানে গঙ্গা সমস্ত কিছু গ্রাস করে পৌঁছেছে ভূতনির রিং বাঁধে। সেখানেও শুরু হয়েছে ভাঙন। বিভিন্ন জায়গায় নেমেছে ধস। ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলি বালির বস্তা দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। তারপরও অব্যাহত ভাঙন। সোমবার পশ্চিম রতনপুরে বাঁধের ২০ মিটার অংশ গঙ্গায় তলিয়ে যায়। যা দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন বাসিন্দারা। কেশরপুরে চলা কাজ বন্ধ করে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয় বাসিন্দা অর্জুন মণ্ডল বলেন, নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে। বস্তায় খুব কম মাটি ভরে নদীতে ফেলা হচ্ছে। কাজের নামে শুধু লুট চলছে এলাকায়। প্রতিবাদ করলেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা। যেভাবে বাঁধ গঙ্গায় ধসে পড়ছে, তাতে নদীর জলস্তর বাড়লেই ভয়ানক পরিস্থিতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। মালদহ জেলা সেচদপ্তরের আধিকারিক শিবনাথ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিম রতনপুরের বাঁধে অনেকটা অংশ ভেঙেছে। সেই জায়গায বালির বস্তার মাধ্যমে পুনরায় সংস্কার করা হচ্ছে। গঙ্গার জলস্তর বাড়লেও কোনওভাবে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই চেষ্টা চলছে। এই বাঁধ চরম বিপদসীমার জলস্তর রুখেছে। তাই বাঁধ নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। নিজস্ব চিত্র।