Bartaman Logo
২৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূল আমলে বড়ো আর্থিক অপরাধের ফাইল বন্দি! ৫ লক্ষের সাইবার কেলেঙ্কারির তদন্তে সিআইডি

তৃণমূল জমানায় সাইবার অপরাধের মাধ্যমে হাতানো বড়ো অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার তদন্তই হয়নি। এই ধরনের এফআইআরকে বাড়তি গুরুত্ব দেয়নি থানা।

তৃণমূল আমলে বড়ো আর্থিক অপরাধের ফাইল বন্দি!  ৫ লক্ষের সাইবার কেলেঙ্কারির তদন্তে সিআইডি
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: তৃণমূল জমানায় সাইবার অপরাধের মাধ্যমে হাতানো বড়ো অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার তদন্তই হয়নি। এই ধরনের এফআইআরকে বাড়তি গুরুত্ব দেয়নি থানা। গড়পড়তা অন্য অভিযোগের মতোই এক্ষেত্রেও গতানুগতিক তদন্তই হয়েছে। মানি ট্রেলের শিকড়ে যাওয়ার কোনো চেষ্টাই হয়নি। বিদেশে পাচার হয়ে গিয়েছে কোটি কোটি টাকা। পালাবদলের পর বিপুল অঙ্কের টাকা জালিয়াতির শিকড়ে যেতে সিআইডির সাইবার ক্রাইম থানা এফআইআর রুজুসহ কেসের তদন্ত করার দায়িত্ব দিল পুলিশ ডিরেক্টরেট। গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সময়ে বেআইনি কল সেন্টার চালানোর অভিযোগে একাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। ওই কল সেন্টারগুলি থেকে বিদেশি নাগরিকদের টেক সাপর্টে দেওয়ার নামে প্রতারণা চলেছে। উদ্ধার হয়েছে মোবাইল, নগদসহ বিভিন্ন সামগ্রী। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এও জেনেছে, এই কল সেন্টারের মাথারা দুবাইতে বসে গোটা কারবার চালাচ্ছে। ক্রিপ্টো কারেন্সি বা হাওলার মাধ্যমে তাদের কাছে টাকা পৌঁছে গিয়েছে। তাদের ধরা তো দূর  সিংহভাগ কেসেরই চার্জশিট হয়নি। এর সঙ্গে শেয়ার ট্রেডিং, ডিজিটাল অ্যারেস্ট, কেওয়াইসি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়েছে সাইবার প্রতারকরা। প্রতিটি ক্ষেত্রে এই রাজ্যের সাইবার প্রতারকদের সঙ্গে অন্য রাজ্যের জালিয়াতদের যোগ মিলেছে। বেশিরভাগই ক্ষেত্রেই আর্থিক প্রতারণার পরিমাণ পাঁচ লক্ষ টাকার বেশি। তারপরেও মানি ট্রেল খুঁজতে মূল রুটে যাননি থানার তদন্তকারী অফিসাররা। সাইবার ক্রাইম থানা বা উইংকে দায়িত্ব না দিয়েই থানাই এফআইআর করেছে। তৃণমূল আমলে বিপুল পরিমাণ আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্ত কী হয়েছে, তা নথি ঘাঁটতে গিয়ে এই তথ্য পেয়েছেন রাজ্য পুলিশের আধিকারিকরা। সাইবার জালিয়াতরা হাওলার মাধ্যমে প্রতারণার অঙ্ক মধ্যপ্রাচ্যে, থাইল্যান্ড কিংবা মালেশিয়ায় পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তদের জমি, বাড়ি, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়নি। এই কারণে রাজ্য পুলিশের তরফে সমস্ত থানা ও ইউনিটকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে: পাঁচ লক্ষ বা তার বেশি টাকার সাইবার জালিয়াতি হলেই  সিআইডি এফআইআর করবে। এনসিআরপি পোর্টালে জমা পড়া অভিযোগের ক্ষেত্রে জিরো এফআইরে করবে তারা। তারা মানি রুটের তদন্ত করবে, যাতে হাওলার মাধ্যমে টাকা পাচার আটকানো যায়। একইসঙ্গে জালিয়াতির টাকায় দেশে কেনা সম্পত্তি চিহ্নিত করে অ্যাটাচ করবে তারা। বিদেশে সম্পত্তির হদিশ মিললে সেগুলিও ব্লক করার জন্য কেন্দ্র মারফত সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে আরজি জানানো হবে। 

Advertisement


   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ