সংবাদদাতা, পতিরাম: কখনও গ্রামের মানুষকে বোকা বানিয়ে, আবার টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কাগজপত্র নিয়ে সিম তুলে এবং ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট বানিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা করছে প্রতারকরা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এমনই প্রতারণা চক্রের হদিস পেল সাইবার ক্রাইম থানা। মঙ্গলবার রাতভর জেলাজুড়ে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
পুলিস সূত্রে খবর, ধৃত রাকিবুল ইসলাম ও মোক্তার ইসলামের বাড়ি পতিরাম থানা এলাকায়। সম্পর্কে তারা ভাই। তবে আলাদা আলাদা জায়গায় থাকত। ওই চক্রের আরও একজনকে গঙ্গারামপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে তৃতীয় লিঙ্গের। ধৃতদের থেকে বহু সিম, মোবাইল, প্যান, ল্যাপটপ সহ নানা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাগজপত্র দিয়ে বানানো সিম ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে তা কলকাতা ও ঝাড়খণ্ডে পাঠিয়ে দিত এই চক্রটি। ঘরে বসেই ধৃতরা কোটি কোটি টাকা প্রতারণা করেছে বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকেই যুক্ত বলে পুলিসের অনুমান।
পুলিসের এই সাফল্য তুলে ধরে সাইবার থানার আইসি সৌরভ ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করেন ডিএসপি (সদর) বিক্রম প্রসাদ। তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন থানার সহযোগিতায় মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে ব্যাঙ্কের খাতা, এটিএম, মোবাইল ফোন, প্যান, ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কীভাবে তারা প্রতারণা করত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে ৯১টি সিম কার্ড, ২২টি অ্যাক্টিভ মোবাইল, একটা ল্যাপটপ, ৮টি প্যান কার্ড, ২০টি এটিএম কার্ড, বিভিন্ন ব্যাঙ্কের চারটি চেকবই ও তিনটি পাসবুক উদ্ধার হয়েছে।
মোক্তারের বাড়ি পতিরাম হলেও গঙ্গারামপুর শহরের একটি ফ্ল্যাটে থাকত। অভিযানের খবর পেয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয় মোক্তার। তার ভাই রাকিবুলকে কুমারগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিসের দাবি, ধৃতদের বাবাও এই কাজে যুক্ত। সে পলাতক। সাইবার প্রতারণা করে পরিবারটি কোটি টাকার সম্পত্তি করেছে। গঙ্গারামপুরের শিববাড়ির বাসিন্দা রত্না নানা জায়গা থেকে সিম কিনে মোক্তার ও রাকিবুলকে জোগান দিত।



