নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: কৃষকদের আয় বাড়াতে অন্তর্বর্তী চাষে নতুন চমক উত্তর দিনাজপুর কৃষিদপ্তরের সিড সার্টিফিকেশন শাখার। একই সময়সীমায়, একই জমিতে সমানতালে ফলছে সর্ষে, ভুট্টা ও বরবটি। এতে যেমন অতিরিক্ত লাভের মুখ দেখছেন কৃষক, তেমনই ফলনও বৃদ্ধি হচ্ছে। সঙ্গে কমেছে চাষের খরচ। সম্প্রতি দপ্তরের এই নয়া উদ্যোগে সফল হয়েছেন রায়গঞ্জের দিলীপ শীল নামের এক কৃষক। অন্তর্বর্তী চাষ পদ্ধতিতে একসঙ্গে সর্ষে ও ভুট্টা চাষ করে তিনি সাফল্য পেয়েছেন। এনিয়ে উচ্ছ্বসিত ওই কৃষক ও কৃষিদপ্তরের সিড সার্টিফিকেশন শাখা।
উত্তর দিনাজপুর জেলার সিড সার্টিফিকেশন শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর শ্রীকান্ত সিনহা বলেন, খাতায় কলমে সর্ষে, ভুট্টা ও বরবটির অন্তর্বর্তী চাষে কৃষি বিজ্ঞানীরা সাফল্য আগেই পেয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে কৃষকের জমিতে তার প্রয়োগ এবং সফল হওয়া জেলায় এই প্রথম। কৃষকের আয় বাড়াতে একই জমিতে একই সময়সীমার মধ্যে রবি মরশুমে ভুট্টা চাষের সঙ্গেই সর্ষে এবং বরবটি চাষে আমরা গুরুত্ব বাড়াচ্ছি। আমরা আপাতত বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের সোহরাই এলাকায় দিলীপ শীল নামে একজন কৃষকের এক বিঘা জমিতে সর্ষে, ভুট্টা ও বরবটি চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। তাতে কৃষক মহল থেকে ব্যাপক সাড়া মিলছে।
রবি মরশুমে জেলায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা ও ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে সর্ষে চাষ হয়। অর্থাৎ ১ লক্ষ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে পৃথকভাবে সর্ষে এবং ভুট্টা চাষ হয়। কিন্তু পৃথকভাবে চাষের বদলে যদি অন্তর্বর্তী চাষের পরিমাণ বাড়ে, তাহলে ফলন ও কৃষকের আয় বাড়বে। তারই বাস্তব প্রয়োগ হয়েছে সোহরাইয়ের দিলীপবাবুর জমিতে। দপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী ডিসেম্বরের শুরুতেই দিলীপবাবু তাঁর জমিতে সর্ষে বীজ ফেলেন। তার ঠিক তিন দিন পর ওই জমিতেই দেড় ফুট বাই এক ফুট দূরত্বে ভুট্টা বীজ বপন করা হয়। এজন্য প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হয়। চলতি সপ্তাহেই জমি থেকে সর্ষে উঠেছে। ক’দিন বাদে ভুট্টা গাছে ফুল ধরলেই বরবটি লাগানো হবে। মে মাসের শেষের দিকে ভুট্টা ওঠার পর বরবটি উঠবে।
দিলীপবাবু বলেন, অন্তর্বর্তী চাষে আমার এক বিঘা জমিতে দুই কুইন্টাল সর্ষে উৎপাদন হয়েছে। এতে ১২ হাজার টাকা লাভ হবে। আশা করছি ওই জমিতেই অন্তত ১৮ কুইন্টাল ভুট্টার ফলন হবে। তারপর উঠবে বরবটি। অন্তর্বর্তী এই চাষে জমিতে কীটনাশকের প্রয়োগও অনেক কমে গিয়েছে। সব মিলিয়ে সিড সার্টিফিকেশন দপ্তরের উদ্যোগে আমার জমিতে এই চাষে অতিরিক্ত আয়ের পথ খুলল।