নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তৃণমূল কর্মীকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বিজেপির ময়না মণ্ডল-৩ কমিটির সভাপতি উত্তম সিং। তিনি জেলা পরিষদ সদস্যও। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি থেকে ময়নায় একটি দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে থানার কাছে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিজেপির ওই দাপুটে নেতাকে গ্রেপ্তারের পরই থানার নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়। থানার গেটের সামনে ব্যারিকেড করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গ্রেপ্তারির খবর জানাজানি হতেই ময়নায় ব্যাপক হইচই পড়ে যায়। বিজেপি নেতৃত্ব ধৃত নেতার আড়ংকিয়ারানা গ্রামের বাড়িতে যায়। এনিয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য চন্দন মণ্ডল কলকাতায় গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় ময়নার পেটুয়ার মোড় থেকে গোজিলাইক মোড় পর্যন্ত চন্দন মণ্ডলকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করে তৃণমূল। সেই মিছিলে অংশ নেন ইজমালিচক গ্রামের তৃণমূল কর্মী শ্রীকান্ত বর্মন। মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার সময় ইজমালিচক দুর্গামণ্ডপের কাছে শ্রীকান্তকে মারধর করা হয়। বিজেপি নেতা উত্তম সিং ওই তৃণমূল কর্মীকে চড়, থাপ্পড় ও ঘুঁষি মারেন। এরপর জখম অবস্থায় শ্রীকান্তকে গড়ময়না গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্রীকান্তের দাদা স্বপন বর্মন ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ময়না থানায় এফআইআর করেন। সেই ঘটনায় মঙ্গলবার ওই বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের দোর্দণ্ডপ্রতাপ বিজেপি নেতা উত্তম সিং। দীর্ঘসময় ধরে বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতকে উত্তপ্ত করে রাখার নেপথ্যে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ। এখনও বাকচার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিজেপি ছাড়া অন্য দলের পতাকা নিষিদ্ধ। বিশেষ করে ২০২৩ সালে ১ মে গোড়ামহাল গ্রামে বিজেপির বুথ সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়া খুনের ঘটনায় এনআইএ তদন্তে একের পর এক তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তারির পর শাসক দল ওই তল্লাটে কোণসাঠা হয়ে পড়ে। অনেক তৃণমূল নেতাকর্মী এখনও ঘরছাড়া। উত্তম সিংয়ের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা ওই এলাকাকে সন্ত্রস্ত করে রাখছে বলে অভিযোগ। গত লোকসভা ভোটের আগেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
উত্তম সিংয়ের বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি মামলা দায়ের হয়। ২০১৯ সালে ১৪ অক্টোবর বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন বরুণা গ্রামে খুন হন তৃণমূল কর্মী বসুদেব মণ্ডল। সেই ঘটনাতেও উত্তমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। এপর্যন্ত প্রায় ৩০টি মামলা তাঁর বিরুদ্ধে ঝুলছে। গত ১৪ তারিখ আরও একটি মামলা দায়ের হয়। ওইদিন শ্রীকান্ত বর্মনকে চড় মারার কথা সংবাদ মাধ্যমের সামনে স্বীকারও করেন উত্তম।
বিজেপি নেতা তথা ময়না পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা গৌতম গুরু বলেন, ভোট এলেই মিথ্যা কেস এবং পুলিশি হয়রানি নতুন কোনও ঘটনা নয়। লোকসভা ভোটের সময়ও উত্তমকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার ময়নায় একটি কর্মিসভা ছিল। সেখানে আসার পথে তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। একজনকে মারধর করার ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা থানা ঘেরাও করব। এর শেষ দেখে ছাড়ব।