নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রায় তিনদিন হতে চলল। এখনও অধরা ডোমজুড়ের পঞ্চায়েত প্রধান ও এক তৃণমূল কর্মীকে গুলি চালানোর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাসু। ওই দুষ্কৃতীর খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে হাওড়া সিটি পুলিশ। এদিকে, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরলেও রীতিমতো আতঙ্কগ্রস্ত তৃণমূল কর্মী অনুপম রানা।
রবিবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণকুমার ত্রিপাঠির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী সাঁপুইপাড়া, চাঁদমারি বাজার, বেলুড় স্টেশন রোড পরিদর্শন করে। যে জায়গাগুলি দিয়ে দুষ্কৃতীর পালানোর সম্ভাবনা, সেগুলি ঘুরে দেখেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্তকে আমরা ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছি। বিভিন্ন এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। দুষ্কৃতী দ্রুত ধরা পড়বে।
২৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে একটি বউভাতের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে মালিবাগান বুড়োশিবতলা এলাকায় দুষ্কৃতীর গুলিতে জখম হন সাঁপুইপাড়া বসুকাটি পঞ্চায়েতের প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু। দু’টি গুলি লাগে তাঁর কাঁধে ও পেটে। গুলিবিদ্ধ হন তৃণমূল কর্মী অনুপম রানাও। অস্ত্রোপচারের পর এই মুহূর্তে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান। তাঁর অবস্থা আগের তুলনায় অনেকটাই স্থিতিশীল। আর এদিন সকালেই উত্তর হাওড়ার বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সাঁপুইপাড়ার বাড়িতে ফেরেন তৃণমূল কর্মী অনুপম রানা। তাঁর চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। তিনি বলেন, কী কারণে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, বলতে পারব না। কিন্তু খুব ভয়ে রয়েছি। দুষ্কৃতী ধরা না পড়লে যে কোনও মুহূর্তে আবার গুলি চালানোর ঘটনা ঘটতে পারে। পরিবারের উপরও আক্রমণ হতে পারে।
শুক্রবার থেকেই গোটা এলাকায় পুলিশ পিকেটিং চলছে। তারপরেও আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অনেকেই বলেন, রাতে এখনও রাস্তায় বের হতে ভয় হচ্ছে। এই গুলিকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত বাসু এর আগেও নানা দুষ্কৃতীমূলক কাণ্ড ঘটিয়েছে। ওকে দ্রুত গ্রেপ্তার করুক পুলিশ। এদিকে, রাজনৈতিক কারণে নয়, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেই এই গুলি চালানোর ঘটনা বলে প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। স্থানীয় সূত্র জানা গিয়েছে, প্রোমোটিং, ইমারতি দ্রব্য বিক্রি, মাছের ভেড়ি সহ একাধিক ব্যবসা রয়েছে পঞ্চায়েত প্রধান বাবুর। প্রোমোটিংয়ের কারণেই বহু বছর আগে বাসুর সঙ্গে বাবুর বিবাদ চরমে পৌঁছেছিল। ডোমজুড়ের বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ বলেন, এলাকায় প্রোমোটিং নিয়ে আর কোনও ধরনের সিন্ডিকেট নেই। পুরনো বিবাদ থেকেই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।