নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: গোঘাটে তৃণমূল কর্মী খুনের দায়ে মঙ্গলবার মূল অভিযুক্ত বলদেব পালকে ফাঁসির সাজা শোনাল আরামবাগ আদালত। দোষী সাব্যস্ত হওয়া বাকি ১৮জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এদিন আরামবাগের অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট সেশন জজ কোর্টের বিচারক কিসেন কুমার আগরওয়াল এই রায় শুনিয়েছেন। তার জেরে আদালত চত্বরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। এদিন আদালতে ব্যাপক ভিড় জমে। আদালতের গেটের বাইরে রায় শোনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন মানুষজন। রায় বেরতেই আসামী পক্ষের পরিবারের সদস্যরা অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে রায়ে খুশি খুন হওয়া তৃণমূল কর্মী শেখ নঈম উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা।
এই মামলার সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শ্যাওড়া ইউনিয়ন হাই স্কুলের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০১১ সালের ৯ ডিসেম্বর খুনের ঘটনাটি ঘটে। আমডোবার বাসিন্দা শেখ নঈম উদ্দিন স্কুলের নির্বাচনে নমিনেশন করতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তিনি আরও বলেন, মামলায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে বিচার চলছিল। বিচার পর্ব চলাকালীন চারজনের মৃত্যু হয়। পরে ২৬ জনের মধ্যে ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।
এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বলদেব পাল গুলি চালিয়েছিল। ফলে তার জন্য ফাঁসির আর্জি জানিয়েছিলাম। সেইজন্য এজলাসে দীর্ঘ সওয়াল জবাব চলে। অবশেষে আদালত বলদেবকে ফাঁসির সাজা দিয়েছে। বাকি ১৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। তারসঙ্গে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার নির্দেশ হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক মাস কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মৃত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী তাহেরা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। আদালতের উপর ভরসা রেখেছিলাম। দেরি হলেও আদালতের এই রায়ে আমরা খুশি। আসামীদের পরিবারের সদস্যরা অবশ্য রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিন আরামবাগে এসডিপিও অফিসে হুগলি গ্রামীণ পুলিসের অতিরিক্ত পুলিস সুপার কৃশানু রায় এই প্রসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। অভিযোগের ভিত্তিতে সাক্ষীগোপাল ঘোষ পরে গোঘাটের তৎকালীন ওসি প্রশান্ত কুমার চট্টোপাধ্যায় তদন্ত করেন। সেইমতো ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়। ৩০জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে পুলিস। গত সোমবার ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।
বলদেবের ভাইপো সাহেব পাল বলেন, আমার কাকু আগে ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু ঘটনার সময় সে তৃণমূলেই ছিল। আমরা এই রায়ে খুশি নই। উচ্চ আদালতে যাব।