Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বন্ধুর থেকে টাকা নিতে এসে ফাঁদে টালিগঞ্জ গণধর্ষণে মূল অভিযুক্ত, বর্ধমানে ধৃত চন্দন, অধরা দীপ

ধরা পড়ার ভয়ে এটিএম কার্ড, মোবাইল ব্যবহার করেনি টালিগঞ্জ গণধর্ষণ কাণ্ডের দুই অভিযুক্ত। তবে বন্ধুর কাছে নগদ টাকা নিতে এসে বর্ধমানে পুলিশের জালে পড়ল মূল অভিযুক্ত চন্দন মল্লিক।

বন্ধুর থেকে টাকা নিতে এসে ফাঁদে টালিগঞ্জ গণধর্ষণে মূল অভিযুক্ত, বর্ধমানে ধৃত চন্দন, অধরা দীপ
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধরা পড়ার ভয়ে এটিএম কার্ড, মোবাইল ব্যবহার করেনি টালিগঞ্জ গণধর্ষণ কাণ্ডের দুই অভিযুক্ত। তবে বন্ধুর কাছে নগদ টাকা নিতে এসে বর্ধমানে পুলিশের জালে পড়ল মূল অভিযুক্ত চন্দন মল্লিক।     

Advertisement

শনিবার থেকে পলাতক দু’জনেই। খরচ চালাতে টাকার প্রয়োজন। কিন্তু, এটিএম ব্যবহার করলে পুলিশের নজর পড়বে। তাই বন্ধুর থেকে টাকা ধার চায় চন্দন। বর্ধমান স্টেশনে বন্ধুর কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা নিতে এসেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হল ফেরার যুবক। সেখানে হানা দেয় হরিদেবপুর থানার পুলিশ। বুধবার ভোররাতে গ্রেপ্তার করা হয় চন্দনকে। তবে খোঁজ মেলেনি অপর অভিযুক্ত দেবাংশু বিশ্বাস ওরফে দীপের।
গত শুক্রবার এক তরুণীকে টালিগঞ্জের রিজেন্ট কলোনিতে ভাড়া বাড়িতে মাদক মিশ্রিত পানীয় খাইয়ে দেবাংশু ও চন্দন ধর্ষণ করে। শনিবার সকালে সেখান থেকে চম্পট দেয় দুই অভিযুক্ত। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে খানাতল্লাশিতে নামে হরিদেবপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ট্র্যাক করতে শুরু করে পুলিশ। বিষয়টি আগাম আঁচ করেছিল তারা। দু’জনেই ফোন বন্ধ করে দেয়। কেউই এটিএম কার্ড ব্যবহার করেনি। কোনও ইউপিআই লেনদেনও হয়নি। ফলে দুই তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা শেষ হয়ে আসে। টাকা চাওয়ার জন্য শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ধরে উত্তর ২৪ পরগনার গুমায় যায় তারা। সেখানেই চন্দনের মাসির বাড়ি। কিন্তু, মাসি টাকা ও আশ্রয় দিতে অস্বীকার করেন। বর্ধমান স্টেশনের কাছে একটি হোটেলে সোমবার পর্যন্ত কাটায় তারা। তারপর দেবাংশু চলে যায় শান্তিনিকেতনে। চন্দন পাশের একটি দোকানদারের ফোন নিয়ে যোগাযোগ করে হরিদেবপুরের এক বন্ধুর সঙ্গে। নগদ ১০ হাজার টাকা চায় অভিযুক্ত। বন্ধুকে বলে, বর্ধমান স্টেশনে এসে টাকা দিয়ে যেতে। 
টাকার জন্য ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে দু’জনে যোগাযোগ করবে, তা জানত পুলিশ। তাই ফাঁদ পাতাই ছিল। চন্দনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে ফোন আসা মাত্র তা তদন্তকারীদের নজরে আসে। টাকা দিতে যাওয়ার সময় সঙ্গে যান সাদা পোশাকের অফিসাররা। বুধবার ভোররাতে বর্ধমান স্টেশনে টাকা হাতবদলের সময় ঘিরে ফেলা হয় চন্দনকে। তাকে জেরা করে পুলিশ জেনেছে, টাকা নিয়ে ট্রেন ধরে বারাণসী পালানোর ছক ছিল দু’জনের।  ধৃতকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবী রাজু গাঙ্গুলি বলেন, নির্যাতিতা অপহৃত হলে নিশ্চয় বাইকে নিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার করতেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে সেই ছবি সংগ্রহ করা হোক। ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কের জন্য এটি হয়েছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ