নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গোবরডাঙার রেলব্রিজ এলাকায় এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের ২০ দিনের মধ্যে ঘটনার কিনারা করল বনগাঁ জিআরপি। তাঁকে খুনের অভিযোগে সোমবার রাতে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম বুদ্ধ মণ্ডল (৪০)। ইঞ্জিন ভ্যান বিক্রির টাকার লোভেই ভ্যানচালক অভিজিৎ মাহালিকে খুনের কথা তিনি জেরায় স্বীকার করেছেন বলে দাবি জিআরপি’র। মঙ্গলবার ধৃতকে বনগাঁ আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
জানা গিয়েছে, ৮ অক্টোবর সকালে গোবরডাঙা রেলব্রিজ সংলগ্ন লাইনের ধারের একটি ড্রেন থেকে এক যুবকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। মৃতের গলায় বেল্ট জড়ানো ছিল। শরীরের একাধিক অংশেও ছিল ক্ষত। পরে, মৃতের হাতের ট্যাটু দেখে তাঁর পরিচয় জানতে পারে বনগাঁ জিআরপি। মৃত যুবকের নাম অভিজিৎ মাহালি। তিনি পেশায় ইঞ্জিনভ্যান চালক। ভ্যান চালানোর পাশাপাশি অভিজিৎ একটি ছোট ব্যবসাও করতেন। থাকতেন মছলন্দপুরে একটি ভাড়া বাড়িতে।
জানা গিয়েছে, ব্যবসার জন্য ধারদেনা করা নিয়ে অভিজিৎ এবং তাঁর স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি ছিল। এর জেরে ছেলেকে নিয়ে স্ত্রী বাপের বাড়িতে চলে যান। ৮ অক্টোবর অভিজিতের গলায় ফাঁস দেওয়া, ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় রেললাইনের ধার থেকে। পরিবারের লোকজন খুনের অভিযোগ দায়ের করেন বনগাঁ জিআরপিতে। অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ঘর করার জন্য অভিজিৎ নিজের ইঞ্জিন ভ্যান বিক্রি করেছিলেন ৪০ হাজার টাকায়। সেটি তিনি বিক্রি করেন হাবড়ার সলুয়ার বাসিন্দা বুদ্ধ মণ্ডলের কাছে।
গত সাত অক্টোবর সন্ধ্যায় ইঞ্জিন ভ্যান বিক্রির ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য বুদ্ধ রেলব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ডেকেছিলেন অভিজিৎকে। ভ্যান বিক্রির টাকার লোভেই অভিজিৎকে খুনের পরিকল্পনা করেন বুদ্ধ। ঘটনাস্থলে আসার পর অভিজিৎকে মদ্যপান করিয়ে প্রথমে বেঁহুশ করেন বুদ্ধ। এরপর অভিজিতেরই ট্রাউজারের বেল্ট খুলে গলার ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। ধারালো কিছু দিয়ে শরীরের একাধিক অংশে আঘাতও করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বুদ্ধ এলাকা ছাড়েন বলেই জেনেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও খুনের তথ্য সামনে আসে। তদন্তে নেমে সোমবার রাতে হাবড়ার সালুয়া থেকে মূল অভিযুক্ত বুদ্ধকে গ্রেফতার করে বনগাঁ জিআরপি। ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।